দেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী শুরু হয়েছে। প্রথমে বিহারে এসআইআর-এর কাজ সম্পন্ন হয়; তার পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে একযোগে এই কর্মযজ্ঞ চলছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে ও তত্ত্বাবধানে। আর তা করতে গিয়ে এক দিকে যেমন নাজেহাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন, তেমনই হয়রানির শিকার হচ্ছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই ২০০২ সালে শেষ বারের মতো সম্পাদিত নিবিড় সংশোধনীর (তখন তা ‘বিশেষ’ ছিল না) পর প্রস্তুত হওয়া ভোটার তালিকাকেই এখন মাপকাঠি ধরছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর সেটাই প্রধান বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহু মানুষের সামনে। এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা এই মধ্যবর্তী ২৩ বছরে এক বা একাধিক বার বাসস্থান বদল করেছেন। তাঁদের পক্ষে স্মৃতি খুঁড়ে হয়তো মনে করা সম্ভব যে, ২০০২ সালে তাঁরা কোথায় ছিলেন। কিন্তু স্মৃতিতে গভীর খননকার্য চালিয়েও তৎকালীন ভোটকেন্দ্রের নাম, নম্বর, বিধানসভা এলাকা, লোকসভা এলাকা ইত্যাদি মনে করে বলা দুষ্কর। এপিক কার্ডের নম্বর দিলেই যে ২০০২ সালের সমস্ত তথ্য মুহূর্তের মধ্যে হাতে চলে আসবে— এমন প্রযুক্তি আছে কি? যাঁরা এই দেশের বৈধ বাসিন্দা, তাঁদের স্মৃতিশক্তির অগ্নিপরীক্ষা নেওয়া শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, অপরাধও বটে। এ কথা ঠিক যে, শুনানিতে অংশগ্রহণ করে কাগজপত্র যথাযথ ভাবে পেশ করলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার হিসাবে নাম উঠে যাবে— হয়তো বড় সমস্যা হবে না। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতেই বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। আর সেই আতঙ্ককে আরও অনেক বাড়িয়ে তুলছে দুই যুযুধান রাজনৈতিক দলের ক্রমাগত তরজা, ভুল ব্যাখ্যা ও তার ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তি।
এই সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারত একমাত্র জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সংবাদমাধ্যমে নিরন্তর প্রচার চালিয়ে তারা কিন্তু সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারত এবং হেল্পলাইন নম্বর চালু করে মানুষের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারত। অথচ মানুষের ভরসা জোগাতে তারা কার্যত কোনও উদ্যোগই করল না। এ বারের মতো যা হওয়ার, তা তো হয়েই গেল। কিন্তু ভবিষ্যতে আর কখনও যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব। এক জন সচেতন নাগরিক হিসাবে নির্বাচন কমিশনকে এই পরামর্শ দেওয়া যায় যে, ভবিষ্যতে নিবিড় সংশোধনী ২৩ বছরের মতো দীর্ঘ ব্যবধানে নয়, আট থেকে দশ বছরের ব্যবধানে করা হোক। তাতে কমিশনকেও এত হোঁচট খেতে হবে না, আর সাধারণ মানুষকেও এ বারের মতো স্মৃতির অলিন্দে অহেতুক পায়চারি করতে হবে না।
ইন্দ্রনীল ঘোষ, লিলুয়া, হাওড়া
অনৈতিক
সম্প্রতি আমেরিকা দ্বারা ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই অপহরণের পিছনের মূল লক্ষ্য ভেনেজ়ুয়েলার খনিজ সম্পদের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা। বিশেষ করে বামপন্থী রাষ্ট্র ভেনেজ়ুয়েলা যখন নিজের দেশের সম্পদ কোনও ভাবেই আমেরিকার দ্বারা পরিচালিত হতে দিতে রাজি হয়নি, তখন থেকেই সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ নানা দিক থেকেই প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রেই সেই দেশগুলিতে বর্তমানে বামপন্থী সমাজতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে ওই দেশগুলিতে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে গিয়ে আমেরিকাকে যথেষ্ট অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে কখনও সফল, কখনও আবার ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা। ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট বামপন্থী দলের হওয়ায় বরাবরই আমেরিকার কাছে গলার কাঁটার মতো হয়ে থেকেছেন। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে অন্য দেশের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করার অপচেষ্টা সরাসরি বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণারই সমতুল্য, যা এক দিকে যেমন নৈতিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, তেমনই আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী। অবিলম্বে ভেনেজ়ুয়েলায় স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক এবং আমেরিকার এই কর্তৃত্ব বন্ধ হোক।
শুভজয় সাধু, শ্রীরামপুর, হুগলি
নীরবতা কেন?
আমেরিকা ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে এক তরফা ও অমানবিক অর্থনৈতিক অবরোধ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকারের উপর এক আক্রমণ, যার তীব্র নিন্দা হওয়া প্রয়োজন।
কোনও দেশের নিজস্ব রাজনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর আধিপত্য কায়েম করতে অর্থনৈতিক অবরোধ, গোপন অভিযান ও সামরিক চাপ প্রয়োগ— এই পদ্ধতি সভ্যতার কোনও মানদণ্ডেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রত্যক্ষ ফল ভোগ করে সাধারণ মানুষ। খাদ্য ও ওষুধের সঙ্কট তৈরি হয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, এবং হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়।
ভেনেজ়ুয়েলার জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রশ্নাতীত। কারও সেই অধিকার হরণ করার নৈতিক বা আইনি বৈধতা নেই। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি নীতি; তাকে লঙ্ঘন করা মানে বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থার ভিত্তিকেই দুর্বল করা। লক্ষণীয়, এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের বহু দেশ ও নাগরিক সংগঠন প্রতিবাদে সরব হলেও ভারত এখনও পর্যন্ত কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক ন্যায়ের প্রশ্নে এই অবস্থান যথেষ্ট নয়। একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে ভারতের উচিত আরও স্পষ্ট, দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করা। আমেরিকার এই অমানবিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
এই সঙ্কটকালে ভেনেজ়ুয়েলার সাধারণ মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক, শান্তিকামী ও মানবতাবাদী শক্তির একজোট হয়ে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইয়ে নীরবতা কখনওই নিরপেক্ষতার দ্যোতক হতে পারে না।
প্রতাপ চন্দ্র দাস, নবদ্বীপ, নদিয়া
হৃদয়বিদারক
সুদীপ্ত ভৌমিকের ক্যামেরায় ধরা (কলকাতা, ৩-১) একটি ছবির পরিপ্রেক্ষিতে এই পত্র। দক্ষিণ কলকাতার গুরুসদয় রোডের সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, উল্টো করে হাঁস ও মুরগি ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জীবন কত তুচ্ছ! আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মানুষ দিনের পর দিন এ রকম কতই অমানবিক কাজকর্ম করে চলেছে।
মানুষের হাতে জবাই হওয়ার আগে কি ওদের একটু ভাল ভাবে রাখা যায় না? গাদাগাদি করে, ঠেসাঠেসি করে, উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখলে লাভটা কী? এতে কি মানুষের কোনও আর্থিক লাভ হয়? নাকি রক্ত-মাংসের শরীরের উপর অনুভূতিহীন উপেক্ষা চাপিয়ে দিয়ে মানুষ নিজেকে শ্রেষ্ঠ জীব প্রমাণ করতে চায়? এ ভাবে রাখার ফলে ওদের শরীর থেকে যে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ হয়, তার তো মাংসের উপরও প্রভাব পড়তে পারে। ওদের চিৎকার, রক্তের স্রোত কি পাশ দিয়ে চলা শিশুর মনের উপর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না? পরিবেশ কি এতে দূষিত হয় না?
প্রশাসন ও পরিবেশবিদরা যদি এ দিকে একটু নজর দেন, তা হলে প্রতি দিনের এই নৃশংস, অমানবিক, হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলি থেকে নাগরিকদের অব্যাহতি মিলতে পারে। খাদ্য ও খাদকের সম্পর্ক থাকলেও অসহায় প্রাণীগুলি কি তাদের হত্যাকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এটুকু মানবিকতা আশা করতে পারে না?
মৌসুমী ভৌমিক, কলকাতা-২৮