আমার ছেলের ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম ছিল না, যে-হেতু তখন ওর আঠারো বছর হয়নি। আমার ও আমার স্ত্রী-র ২০০২-এ ভোটার তালিকায় নাম ছিল। ছেলের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ফর্মে সবটাই ঠিকমতো উল্লেখ করা হয়েছে এবং দেখা গিয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায় শুদ্ধ ভাবেই ছেলের নাম তালিকায় আছে। বাবার নামও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ীই সঠিক ভাবে উল্লেখ করা আছে, পদবির বানানেও কোনও রকম অসঙ্গতি নেই। অথচ, তথ্যগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে আমার ছেলে শুনানির ডাক পায়। বলা হয়, এক দিনের মধ্যে নথি দেখাতে হবে। কারণ, বর্তমান ‘ভোটার তালিকা এবং পূর্ববর্তী এসআইআর-এর সময়ে প্রস্তুত ভোটার তালিকা’য় পিতার নামে অমিল আছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য জমা দেওয়া গণনার ফর্মের মধ্যে আমার কাছে থাকা সংরক্ষিত দ্বিতীয় ফর্মটি পড়েছি, খসড়া তালিকা দেখেছি। কোথাও কোনও তথ্যে অসঙ্গতি দেখিনি। ছেলে বর্তমানে অন্য প্রদেশে আছে। এক দিনের মধ্যে সশরীরে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সামনে উপস্থিতি অসম্ভব। ছেলের নথি সত্তরোর্ধ্ব আমাকেই নিয়ে যেতে হল। এই নোটিস অবশ্যই কমিশনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই প্রাপ্ত। দায়ভার ভোটার নেবেন কেন?
অজিত রায়, কলকাতা-১২২
সমব্যথী নয়
শ্মশানে মানুষের যে কী করুণ অবস্থা হয়, তা মৃতের পরিবার-পরিজনই জানেন। এখানে প্রতিটা জায়গায় ভাগে ভাগে দক্ষিণা দিতে হয়। কষ্ট হয়, যখন দেখি দরিদ্র মানুষ বা অল্পবয়সিরা মারা গেলেও, এই ‘ব্যবস্থা’-র হেরফের হয় না। তা ছাড়া, অনেকে তো রাজ্য সরকারের ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের কথা জানেনই না। জানলেও ওই টাকা পেতে যত বার পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট অফিসে দৌড়তে হয়, তাতে প্রচুর সময় ও অর্থ, দুই-ই নষ্ট হয়। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, শ্মশানে মানুষের শেষকৃত্য নির্ঝঞ্ঝাট সম্পন্ন করার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হোক। আর, যাঁরা ‘সমব্যথী’ প্রকল্পের টাকা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। না-হলে এ সব তুলে দেওয়া হোক।
মলিনা সাহা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা-৫৬
কেন দামি?
প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি কেন্দ্রে ১৫টি এক পাতার বিটাহিসটিন ট্যাবলেটের মূল্য ১৫ টাকা। অথচ নামী বহুজাতিক কোম্পানির একই ওষুধের মূল্য ৪০৫.৯৪ টাকা। কী ভাবে সম্ভব? এটাই ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) বা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজ়েশন (সিডিএসসিও)-এর কাছে আমজনতার প্রশ্ন হওয়া উচিত। জন ঔষধির পাতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র লোগো ও জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস)-এর লোগো বর্তমান। কোনটির কার্যকারিতা কতখানি মানুষ বুঝবে কেমন করে?
বাসুদেব দত্ত, কলকাতা-১৬২
মোবাইল ফেরত
এক বছর আগে আমার ছেলে আমাকে একটি নামী ব্র্যান্ডের দামি স্মার্টফোন উপহার দিয়েছিল। সেটি ব্যবহারের আগে আমার মুখমণ্ডলের ছবি এবং সংখ্যা দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করে বলেছিল, এগুলো রক্ষাকবচ। অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না এবং এই মোবাইলে কোনও যন্ত্রাংশ নাকি বেচাকেনা হয় না। হারিয়ে গেলেও তা ফেরত পাওয়া যায়। দিন কয়েক আগে ভিড়ে সেটি খোয়া যাওয়ায় পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে মোবাইলটির সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করার সময় জানা গেল মোবাইল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ভাল মোবাইলগুলির দাম কম হয় না। তাই চুরি গেলে গায়ে লাগে। মোবাইল সংস্থাগুলির ফোন ফিরে পাওয়ার জন্য আরও আধুনিক প্রযুক্তির কথা ভাবা উচিত।
দেবব্রত সেনগুপ্ত, কোন্নগর, হুগলি
নতুন রুট
দক্ষিণ কলকাতার জনবহুল অঞ্চল শ্রীকলোনি, বিজয়গড়। কিন্তু বর্তমানে এই অঞ্চলে পরিবহণ ব্যবস্থা খুব খারাপ। শুধু আছে ব্যয়বহুল বেসরকারি শাটল বাস ও অটো। আগে হাওড়া, সল্ট লেক, নিউ টাউন, আলিপুর ইত্যাদি জায়গার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও এখন এ-সব অঞ্চলে পৌঁছতে হয় দুই থেকে তিন বার অতিরিক্ত ভাড়া গুনে। কয়েক মাস আগে থেকে ৪১ নম্বর বাসটি আর তার মূল স্ট্যান্ডে আসে না। নিজের মর্জিমাফিক গাছতলা থেকে ছেড়ে হাওড়া যায়। বরং ৪১ নম্বর বাস স্ট্যান্ডটিকে সুচতুর ভাবে উঠিয়ে সেখানে এখন আড্ডা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। অথচ আশপাশের কিছু বাস রুটকে কিছুটা পাল্টালেই সমস্যার অনেক সমাধান হয়ে যায়। গল্ফ গ্রিন থেকে একই রাস্তায় তিনটি বাস রুট আছে। ২৩৪/১-কে বাঘাযতীন হাসপাতাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হোক। ২৪০ নম্বর বাসটি লালকা থেকে বাঘাযতীন হয়ে চালানোর ব্যবস্থা হোক। এ বিষয়ে পরিবহণ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
স্বপন চক্রবর্তী, কলকাতা-৯২
কাগজের ঠোঙা
খবরের কাগজের তৈরি ঠোঙায় মুড়ে খাবার দেওয়া বন্ধ করার কথা এক সময় খবরের কাগজেই প্রকাশিত হয়েছিল। বলা হয়েছিল, কাগজের ঠোঙায় মিষ্টি, তেলেভাজা জাতীয় খাবার সরাসরি ঠোঙার কালির সংস্পর্শে আসে, যা একটি রাসায়নিক পদার্থ এবং শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। কিন্তু কারও কোনও হেলদোল নেই। তাই কাগজের ঠোঙায় খাবার দেওয়া পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করতে সরকারি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রার্থনা করছি।
মঞ্জুশ্রী মণ্ডল, তারকেশ্বর, হুগলি
তোলাবাজি
দীর্ঘ দিন ধরেই লক্ষ করছি দমদম ক্যান্টনমেন্ট গোরাবাজারে বিভিন্ন এলাকার নানা প্রান্ত থেকে আসা আনাজ বিক্রেতাদের কাছ থেকে চলছে নির্বিচারে তোলাবাজি। কয়েক জন যুবক এসে কখনও দশ, কখনও বা কুড়ি টাকার কুপন ধরিয়ে আনাজ বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে চলেছে। কুপনে থাকছে না কোনও সংস্থার নাম। বরং থাকছে কোনও দেবদেবীর মূর্তির ছবি। আবার কখনও দরিদ্র সেবার নামে আদায় করা হচ্ছে বেশ কিছুটা করে আনাজ। এমনিতেই আনাজের দাম এখন চড়া। তার মধ্যেই এই বিক্রেতারা লোকসান সহ্য করেও নিশ্চিন্তে বাজারে বসতে পারার কারণে এই অন্যায্য দাবি পূরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ, অবিলম্বে আনাজের বাজারে এই জাতীয় অন্যায় তোলাবাজি বন্ধ করা হোক।
সমীর কুমার ঘোষ, কলকাতা-৬৫
সত্যতা
সন্দীপন চক্রবর্তীর “‘যুব সাথী’র ভাতা কার হাতে, ভরসা স্ব-ঘোষণা” (১৫-২) শীর্ষক প্রতিবেদনে লেখা আছে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ৫০০ টাকা দিয়ে ‘বেকার ভাতা’ চালু হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সুজন চক্রবর্তীর যুক্তিও উল্লেখ করা হয়েছে। আমি নিজে ১৯৮০ সালে মাধ্যমিক পাশ করি। ওই বছরই মেদিনীপুরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নামও লেখাই। পরবর্তী কালে স্নাতক স্তরে উত্তীর্ণ হই। কিন্তু কখনও বেকার ভাতা পাইনি। বা আমার কোনও পরিচিতও পেয়েছে বলে শুনিনি। তখন শুধু শুনতাম, ‘আগে বেকার ভাতা চালু ছিল, এখন বন্ধ’। তাই এই খবর কতখানি সত্য, তা নিয়ে মনে একটা ধোঁয়াশা রয়ে গেল।
প্রলয় দে, চন্দ্রকোনা রোড, পশ্চিম মেদিনীপুর