—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বেকারদের জন্য ‘যুব-সাথী’ প্রকল্প চালু করে মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প কার্যকর হবে। প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ‘ব্যাপক সাড়া’র দাবি করা হচ্ছে সরকারি নানা সূত্রে। এই নিয়ে প্রচারও চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমন আবহে দলের ইস্তাহারে (সঙ্কল্পপত্র) যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং ‘উৎসাহ ভাতা’ হিসেবে মাসে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার মতো বিষয়ে জোর দিতে পারে রাজ্য বিজেপি। বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে উত্তরবঙ্গ-উন্নয়নও।
বিজেপি সূত্রের খবর, ইস্তাহার সংক্রান্ত দলীয় বৈঠকে রাজ্যের বেকার ভাতার প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। সেখানেই আলোচনা হয়েছে, শুধু ভাতা দিলে যুব সমাজের সমস্যা মিটবে না। উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটা জরুরি। পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ইস্তাহারে রাখার প্রস্তাব এসেছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বেকারদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং উৎসাহ ভাতা হিসেবে মাসে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তবে প্রশিক্ষণ না-নিলে বা মাঝ পথে ছেড়ে দিলে, সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। বিজেপির যুব মোর্চার এক নেতার বক্তব্য, “দেড় হাজার টাকায় এক জন প্রাপ্তবয়স্কের সংসার চলে না। শুধু ভাতা থাকলে সরকারের বিনিয়োগ হলেও, তাতে আখেরে লাভ হবে না। কর্মসংস্থানও হবে না। আমাদের প্রকল্পে যুব সমাজের আর্থিক সুরাহা হবে। ঠিক মতো প্রশিক্ষণ পেলে যুব সমাজ কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পাবে। সরকারও তৈরি কর্মী বাহিনী পাবে।”
পাশাপাশি, সূত্রের দাবি, ইস্তাহারে দলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে এমস, একটি আইআইটি, ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্র তৈরির কথা বলা হতে পারে ইস্তাহারে। প্রস্তাব এসেছে, শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র তৈরির বিষয়েও। পাশাপাশি, বালুরঘাট এবং কলকাতায় আরও একটি বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তাব উঠে এসেছে বৈঠকে।
রাজ্য বিজেপির এক নেতার দাবি, “তৃণমূল রাজ্যটাকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আমরা আর্থিক সহায়তার বিরোধী নই। কিন্তু শুধু ভাতা সমস্যার সমাধান হতে পারে না। রাজ্য জুড়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”