semester in HS 2026

ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিই উস্কে দিল বিতর্ক! উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতির বদল চেয়ে সরব শিক্ষকদের একাংশ

২০২৫ উচ্চ মাধ্যমিকেই প্রথম সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হয় এ রাজ্যে, সারা দেশে এখানেই প্রথম। কিন্তু অনেকেই সে সময় এর বিরোধিতা করেছিলেন। গত মার্চে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হতে না হতেই সংসদ সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে। তার জায়গায় আসেন পার্থ কর্মকার। এক মাসের মধ্যে এই সেমেস্টার পদ্ধতি প্রত্যাহারের ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বিস্তর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৮

— প্রতীকী চিত্র।

ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজমাধ্যমে। ১ এপ্রিল, বোকা বানাতেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নামে কে বা কারা ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিল। এমন অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায়। কিন্তু সে জল আসলে গড়িয়ে গিয়েছে বেশ খানিকটা। নতুন করে উস্কে উঠেছে সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন।

Advertisement

২০২৫ উচ্চ মাধ্যমিকেই প্রথম সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হয় এ রাজ্যে, সারা দেশে এখানেই প্রথম। কিন্তু অনেকেই সে সময় এর বিরোধিতা করেছিলেন। গত মার্চে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হতে না হতেই সংসদ সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে। তার জায়গায় আসেন পার্থ কর্মকার। এক মাসের মধ্যে এই সেমেস্টার পদ্ধতি প্রত্যাহারের ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বিস্তর।

গত ১ এপ্রিল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নাম করে ভুয়ো এক বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। জানানো উল্লেখ করা হয়, আগামী বছর থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি বন্ধ করা হচ্ছে। ফের পুরনো নিয়মে বছরে দু’বার পরীক্ষা হবে। শোরগোল শুরু হতেই বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে সংসদ।

২০২৫ থেকেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে মোট ৪টি সেমেস্টারে ভাগ করে পরীক্ষা শুরু হয়। সেই অনুযায়ী প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টারে ‘মাল্টিপল চয়েজ’ প্রশ্ন এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারে বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টার এবং ফেব্রুয়ারি ও মার্চ নাগাদ হয় দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক মূল্যায়ন সম্ভব হচ্ছে না বলেই বার বার দাবি করেছিলেন শিক্ষকেরা। এই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেমেস্টারের বদলে পুরনো পদ্ধতির পরীক্ষা ব্যবস্থাতেই ফিরে যাওয়ার দাবি তুলেছেন বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন।

কিন্তু কেন?

শিক্ষকরা মূলত তিনটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টার পুরোপুরি ‘মাল্টিপল চয়েজ’ ভিত্তিক প্রশ্ন হওয়ায় দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারে পড়ুয়ারা অসুবিধায় পড়ছে বলে মনে করছেন অনেক শিক্ষকই। বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তরই লিখতে তাদের অসুবিধা হচ্ছে। ভূগোলের মতো বিষয়েও অনেক পড়ুয়া শূন্য পেয়েছে বলেও দাবি করছেন এক শিক্ষিকা। পড়ুয়াদের অনেকেই বই পড়া অভ্যাস করছে না বলে অভিযোগ।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরছেন, তা হল সময়াভাব। পুজোর ছুটি, অন্য ক্লাসের পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টারে মাঝে ছ’মাস সময়ই পাওয়া যাচ্ছে না। কার্যত দু’মাস ক্লাস করিয়েই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। চলতি বছরও এ অভিযোগ তুলেছিলেন অভিভাবকেরাও। শিক্ষকেরাও বলছেন, এক বছর সময় পেলে আরও ভাল ফল হতে পারত।

তৃতীয়ত, শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে। কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতির দাবি, একাদশে যে পরিমাণ পড়ুয়া ভর্তি হয় দ্বাদশের চতুর্থ সেমেস্টারে সেই পরিমাণ পড়ুয়া থাকে না। এতে শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংস সাধিত হয়ে বলেও মনে করছেন বহু শিক্ষক।

পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ করতে হলে যে কোনও বিষয়ে গভীরতা থাকা প্রয়োজন। সেমেস্টারে নম্বর পাওয়ার তাগিদে পড়ুয়ারা সেই পড়াশোনা থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে বলে দাবি মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদারের। তিনি বলেন, “পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর আর বিষয়ের গভীরতার বিষয় এক নয়। এতে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।”

পাপশাপাশি পরীক্ষার পদ্ধতি এবং প্রশ্নের ধরন— দু’টি বিষয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ভাবে পাশ করে যাওয়া এবং কম পড়ে বেশি নম্বর পেয়ে যাওয়ার জন্য প্রশ্নের যে ধরন তৈরি হয়েছে, সেটা স্থায়ী ভাবে পড়ুয়াদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রথম থেকেই এই বিষয়গুলি নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষকের পক্ষ থেকেই আপত্তি ছিল। এই অবস্থার বদল প্রয়োজন।”

ফলে ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে শিক্ষকেরা কড়া পদক্ষেপের দাবি জানালেও বিজ্ঞপ্তির বিষয়বস্তু যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক, এমনই মনে করছেন অধিকাংশ শিক্ষক।

Advertisement
আরও পড়ুন