Teacher mutual transfer

উৎসশ্রী পোর্টালে আবেদন করা যাচ্ছে, বদলি হচ্ছে না! উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠি এসএসসি-তে

রাজ্যের সরকার পোষিত স্কুলগুলির শিক্ষকেরা যাতে আপস বদলির ব্যবস্থা করতে পারেন, সে জন্যই চালু হয়েছিল উৎসশ্রী পোর্টাল। তবে সেখানেও নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগ, গত ১৫ মাসেও বদলি পাননি বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৭

— প্রতীকী চিত্র।

বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া, দিন শেষে ফিরে আসা— যাতায়াতে পেরোতে হয় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ। উপায়ান্তরহীন শিক্ষক-শিক্ষিকারা এ ভাবেই পরিবার, রোজগার এবং ছাত্র পড়ানোর কাজের মধ্যে একটা সমতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টা কেটে যায় এ ভাবে। তার পর নিজের নাওয়া-খাওয়ার সময় বলতে যেটুকু থাকে, তাতে শরীর ভাঙে প্রতিদিন। নিজস্ব পড়াশোনার সময় মেলে না।

Advertisement

রাজ্যের সরকার পোষিত স্কুলগুলির শিক্ষকেরা যাতে আপস বদলির ব্যবস্থা করতে পারেন, সে জন্যই চালু হয়েছিল উৎসশ্রী পোর্টাল। তবে সেখানেও নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযোগ, গত ১৫ মাসেও বদলি পাননি বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা বিবেকরঞ্জন ভুঁইয়া জানান, ২০২০-তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি স্কুল থেকে বদলি হয়ে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের দেশপ্রাণ ব্লকের গোটসাউরী জুনিয়র হাই স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভূগোলের ওই শিক্ষক ৫ বছর পর ফের ২০২৫-এর জানুয়ারিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ব্লকের শালীকোঠা জুনিয়র হাই স্কুলের এক শিক্ষকের সঙ্গে আপস বদলির আবেদন করেন। এই স্কুলটি তাঁর বাড়ির কাছে।

কিন্তু পোর্টালে আবেদন করে আদতে কিছুই লাভ হয়নি। গত এক বছরের বেশি সময় তিনি বদলি পাননি। এ জন্য তমলুকে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে বিকাশ ভবন— সর্বত্র ঘুরেছেন বিকাশ। লাভ হয়নি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর পরিবার। তাই সংসরা ছেড়ে অন্যত্র থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতিদিন সকাল ৮ টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাত ৮টায় ফেরা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে বলে তাঁর দাবি। আপস বদলি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বঞ্চিত।

বিকাশ একা নন। এমন ভোগান্তির শিকার বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাই। তাই এ বারে উৎসশ্রী পোর্টালের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে স্কুল সার্ভিস কমিশনে অভিযোগ জানালেন শিক্ষকেরা।

২০১৬ শিক্ষক নিয়োগের প্যানেলে বাতিল হওয়ায় যাঁরা বদলির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাঁরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। তা হলে প্রশ্ন এই ব্যবস্থা রেখে আখেরে কার লাভ হচ্ছে? ইতিমধ্যে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই। তিনি জানান, এ রকম বহু শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন যাঁরা আবেদন করেও কোনও কিছুতেই সুবিধা পাচ্ছেন না।

চন্দন বলেন, “আমি দফতরে দাবি জানিয়েছি, দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।” নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘‘সরকার আমাদের সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু কিছু মানুষের জন্যে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।’’

Advertisement
আরও পড়ুন