লামিনে ইয়ামাল। ছবি: রয়টার্স।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে গত মঙ্গলবার মিশরের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলে স্পেন। ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। সেই ফলাফলকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে একটি বিতর্ক। দর্শকদের একাংশ মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেন। তাতে ক্ষুব্ধ স্পেনের লামিনে ইয়ামাল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বার্সেলোনা পুলিশ।
শুধু ইয়ামালই নন, মিশরের অধিকাংশ ফুটবলারও মুসলিম ধর্মাবলম্বী। ম্যাচের প্রথমার্ধে দর্শকদের একাংশ মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেন। কোনও ফুটবলারকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা না হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্পেনের তরুণ ফুটবলার। সমাজমাধ্যমে ইয়ামাল বিষয়টিকে ‘অসম্মানজনক এবং অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি জানি, স্টেডিয়ামে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, সেগুলো প্রতিপক্ষ দলকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে বলা হয়নি। তা-ও বলব এই ধরনের ঘটনা অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘জানি, সব সমর্থক অসহিষ্ণু নন। যাঁরা এ সব করেন তাঁদের বলব, স্টেডিয়ামে আসুন ফুটবল উপভোগ করুন। প্রিয় দলকে সমর্থন করুন। কিন্তু ভাবাবেগ বা পরিচয়কে আঘাত করে এমন কোনও মন্তব্য করবেন না। এই ধরনের আচরণ অজ্ঞতা থেকে আসে। বর্ণবিদ্বেষীও বটে।’’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পোদ্রো সাঞ্চেজও বিরক্ত। তিনি সমাজমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেছেন। স্পেনের আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা দেশকে লজ্জায় ফেলে। এগুলো একদমই গ্রহণযোগ্য নয়। আমার মনে হয়েছে, সব কিছু পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে। যাঁরা এ সব করেছেন, তাঁরা ঘৃণা ছড়াতেই এসেছিলেন। তাঁদের খেলার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে হয় না।’’
ঘটনাটি হালকা ভাবে নেয়নি বার্সেলোনা পুলিশও। তদন্তকারীরা টেলিভিশনের ফুটেজ এবং বিভিন্ন রিপোর্ট খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে দোষীদের বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ ফিফাও। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাও আলাদা তদন্ত করছে। এই ঘটনায় শাস্তি হতে পারে স্পেনের।