ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
নিউজ়িল্যান্ডের ভিসার পেতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগছে ভারতীয় পড়ুয়াদের। সে দেশের অভিবাসন দফতরের তরফে জানা গিয়েছে, ভারতের তরফে বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়েছে। সেই আবেদন খতিয়ে দেখে তথ্য যাচাইকরণে সময় লাগছে।
নিউজ়িল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ভিসার আবেদন জমা পড়েছে। চিনের পড়ুয়াদের আবেদন ১৬ দিনের মধ্যে মঞ্জুর হচ্ছে। তবে, ভারতীয় পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে তা মঞ্জুর হতে অন্তত ৩০ দিন সময় লাগছে। নিউজ়িল্যান্ডের অভিবাসন দফতরের অধিকর্তা সিলিয়া কুম্জ় জানিয়েছেন, ২০২৫-এর তুলনায় অন্তত ১১ শতাংশ বেশি আবেদন ২০২৬-এ জমা পড়েছে। তাই সম্পূর্ণ আবেদন খতিয়ে দেখার পর তার প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগছে।
কী কী কারণে সময় লাগছে?
বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার জন্য কোন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে চান, কী ভাবে পড়াশোনার খরচ বহন করবেন, কোথায় থাকবেন— সেই সব তথ্য ভিসার আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হয়। পাশাপাশি, আবেদনের জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র হিসাবে বিশেষ প্রবেশিকার স্কোরও জানাতে হয়। এ ক্ষেত্রে নিউজ়িল্যান্ডের তরফে এই সব বিষয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে। এ ছাড়া ওই দেশের অভিবাসন দফতরের তরফে যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে যে বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে বর্তমান শিক্ষাগত যোগ্যতার কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে।
তবে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় নিয়ে যাচাইকরণ হলেও যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন বাতিলের অভিযোগ করেছেন নিউজ়িল্যান্ড ফোরাম ফর ইমিগ্রেশন প্রফেশনালস-এর সভাপতি জগজিৎ সিন্ধু। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র হিসাবে বিশেষ প্রবেশিকার স্কোর বেশি থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রার্থীর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় পড়ুয়াদের আবেদন ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ঝাড়াই বাছাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভিসার আবেদন খতিয়ে দেখার নিয়ম সকলের জন্য সমান করা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছে জগজিৎ।
তবে, ২০২৪-এ ভারতীয় পড়ুয়াদের ভিসার আবেদন লাগাতার বাতিল হওয়ার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, ২০২৬-এ তা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে যত আবেদন জমা পড়েছে, তার ২১.৫ শতাংশ বাতিল করেছে ওই দেশের সরকার। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২৫ হাজার ৩০০টি আবেদন জমা পড়েছে।