ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
প্রায় চার বছর পর ফের শুরু হল শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণ। বুধবার থেকে উৎসশ্রী পোর্টাল খুলেছে। শিক্ষকেরা ফের আবেদন করতে পারছেন বলে স্কুলশিক্ষা দফতর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
সরকারি এই সিদ্ধান্তে খুশি শিক্ষামহল। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বদলির আবেদনগ্রহণ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী কালে স্কুলগুলিতে শিক্ষক ও গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ ডি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেও বেশ কিছু দিন তা বন্ধ ছিল। বুধবার থেকে শিক্ষকেরা নিয়ম মেনে সব ধরনের বদলির আবেদন অনলাইনে করতে পারছেন।
স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (জেনারেল ট্রান্সফার, ট্রান্সফার অন স্পেশ্যাল গ্রাউন্ড অ্যান্ড রি-অ্যালোকেশন) বিধি, ২০১৫-এর বিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দিন বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে ধারণা।
তবে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘বহু বার আবেদন করার পর পোর্টালে আবেদন নেওয়া শুরু হল। কিন্তু ২০২১ থেকে যাঁদের আবেদনের মীমাংসা হয়নি, তাঁদের বদলি আগে না হলে আবার আইনি জটিলতা হবে বলে আমরা মনে করি।’’ তিনি আরও জানান, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ওই পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তার পর জানিয়ে দেওয়া হয় যে শুধুমাত্র আপস-বদলির আবেদন নেওয়া হবে। বাকি কোনও বদলির আবেদন করা যাবে না। ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত আপস-বদলির আবেদন নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনও বদলি করা হয়নি। ফলে পুরনো আবেদনগুলির ফয়সালা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘‘সব ধরনের বদলি শুরু করবার এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কোনও ভাবেই যেন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়। নিজের জেলায় বদলির সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমে সব শূন্যপদ পূরণ হোক।’’ অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই বলেন, ‘‘বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা নানা রকম অসুবিধার সম্মুখীন হতেন। সেই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি হবে এই আশা করি।’’