ডুরান্ড কাপের তিনটি ট্রফি। — ফাইল চিত্র।
মরশুম শুরুর আগে নতুন সমস্যায় দেশের ফুটবল ক্লাবগুলি। বিদেশিদের এ দেশে খেলার যে ছাড়পত্র সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পাঠানোর কথা, তা কোনও ক্লাবকেই এখনও পাঠানো হয়নি।
আগামী ২৫ জুলাই থেকে ডুরান্ড কাপ দিয়ে নতুন ফুটবল মরশুম শুরু হচ্ছে। যা জানা গেল, ক্লাবগুলি অন্তত তার ১০ দিন আগে থেকে অনুশীলনে নামার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু বিদেশিদের ছাড়পত্র না আসায় তাদের ভিসার আবেদন করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন ক্লাব। তাদের বক্তব্য, ফেডারেশন কর্তারা বিশ্বকাপ দেখতে গিয়েছেন। ফলে কেউই দেশে নেই। সেই কারণেই এই কাজটি বাকি রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে বিদেশি ফুটবলারদের খেলার ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেডারেশন। তার পর সেই ছাড়পত্র ক্লাবগুলির মাধ্যমে ফুটবলারদের কাছে পৌঁছয়। সেই ছাড়পত্র নিজের দেশের দূতাবাসে জমা দিলে তবেই ভিসা পাওয়া যায়। কিন্তু ফেডারেশনের মাধ্যমে সেই নথি ক্লাবগুলির কাছে এখনও না আসায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন ক্লাবের বক্তব্য, ভিসা পেতে অন্তত ১০ দিন লাগে। ফলে ছাড়পত্র না আসায় গোটা প্রক্রিয়াটিই ঝুলে রয়েছে। এরপর ভিসা পেয়ে এ দেশে বিদেশি ফুটবলারদের আসতে আসতে হয়তো মরশুমই শুরু হয়ে যাবে। তার আগে অনুশীলনের কথা এখন ভাবতেই পারছে না ক্লাবগুলি। তাদের বক্তব্য, পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে হয়তো অনুশীলন ছাড়াই ডুরান্ডে খেলতে হতে পারে তাদের।
ক্লাবগুলির দাবি, তারা এ ব্যাপারে একাধিক বার চিঠি দিয়েছে ফেডারেশনকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছুই হয়নি। বিশ্বকাপ শেষ হবে ১৯ জুলাই। তারপর দেশে ফিরে কর্তারা যদি কাজ শুরু করেন, তা হলে দল নামানো সমস্যা হয়ে যাবে বলে মনে করছে তারা।
সমস্যা আরও একটি রয়েছে। ক্লাবগুলির বক্তব্য, আইএসএল এবং ডুরান্ডে কত জন করে বিদেশি ফুটবলার খেলানো যাবে, এখনও জানায়নি ফেডারেশন। সেই কারণে চুক্তিও করা যাচ্ছে না। মোহনবাগান যেমন ম্যাকক্লারেন, অ্যালবার্তো এবং জেলকোভিচের সঙ্গে শুধু চুক্তি করতে পেরেছে। ইস্টবেঙ্গল মাত্র এক জন বিদেশিকে সই করাতে পেরেছে। এর পর যদি আইএসএল এবং ডুরান্ডে বিদেশি খেলাতে পারার সংখ্যাটা আলাদা হয়, তা হলে আরও সমস্যায় পড়বে বলে মনে করছে ক্লাবগুলি।