Education Budget 2026

শিক্ষায় বরাদ্দের বেশির ভাগটাই পাচ্ছে স্কুল, পড়ুয়াদের অন্য রকম ভাবনার পালেও হাওয়া দিলেন নির্মলা

২০২১ সাল থেকেই নিয়মিত ভাবে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে কেন্দ্র। এ বছরও শিক্ষার বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ৬.২২ শতাংশ বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৩
শিক্ষায় কী কী খরচ করতে চায় কেন্দ্র?

শিক্ষায় কী কী খরচ করতে চায় কেন্দ্র? গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

শিক্ষাখাতে ২০২৬ সালে ১,২৮,৬৫০ কোটি টাকা ব্যয় করতে চলেছে কেন্দ্র। তবে এই বরাদ্দের অর্ধেকের বেশি খরচ করা হবে স্কুলের শিক্ষার জন্যই। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, চলতি আর্থিকবর্ষে ৭৮,৫৭২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে স্কুলের জন্য। যা এ যাবৎকালে স্কুলশিক্ষায় খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

Advertisement

২০২১ সাল থেকেই নিয়মিত ভাবে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে কেন্দ্র। এ বছরও শিক্ষার বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ৬.২২ শতাংশ বাড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাতে স্কুল শিক্ষার উন্নতি ছাড়া, যে সকল পড়ুয়া গতের বাইরে ভাবতে চায়, তাদের জন্যও প্রযুক্তি নির্ভর নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা ভেবেছে কেন্দ্র। ভেবেছে উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে দূরে থেকে পড়াশোনা করা ছাত্র-ছাত্রীদের কথা। ঘোষণা করেছে কয়েকটি বিশেষ প্রকল্পও। এ ছাড়া, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির জন্য ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে একটি এআই সেন্টার গঠন করার কথাও বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প এবং বেতন বরাদ্দ

স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের যে নানা ধরনের প্রকল্প রয়েছে, তার প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই আগের থেকে বেড়েছে অর্থ। এর মধ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানে খরচের জন্য অতিরিক্ত ৩৭৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পিএম পোশন প্রকল্প, যা থেকে স্কুলে মিড ডি মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাতেও গত বছরের তুলনায় ৩২ কোটি টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে। পিএম শ্রী স্কুলগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া, স্কুলের প্রশাসনিক নানা প্রয়োজন এবং শিক্ষকদের বেতনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫,৪৮৩ কোটি টাকা।

গ্রামাঞ্চলের স্কুলে ইন্টারনেট

প্রত্যন্ত গ্রামেও পড়ুয়াদের জন্য ইন্টারনেটের সুবিধা পৌঁছে দিতে চাইছে কেন্দ্র। তাই গ্রামাঞ্চলের মাধ্যমিক স্তরের সরকারি স্কুল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে ভারতনেট প্রকল্পের মাধ্যমে। এ ছাড়া, গোটা দেশে পড়ুয়াদের জন্য ৫০ হাজার স্কুলে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব তৈরি করা হবে। যা পড়ুয়াদের সৃষ্টিশীল ভাবনাচিন্তার পালে হাওয়া দেবে। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কৌতুহল জাগানোর চেষ্টা করবে এবং বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়িয়ে তুলবে। ১৫ হাজার স্কুলে কনটেন্ট ল্যাবও তৈরি করা হবে, যা ছাত্রছাত্রীদের অন্য রকমের ভাবনায় উৎসাহ জোগাবে।

মেয়েদের হস্টেল

যে সকল ছাত্রী বাড়ি থেকে দূরে গিয়ে পড়তে যান, তাঁদের উচ্চশিক্ষা লাভের প্রক্রিয়ায় পাশে দাঁড়াবে সরকার। বিশেষ করে যে সকল ছাত্রী বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পড়াশোনা করছেন, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ গবেষণাগারে থাকা, গ্রন্থাগারে থাকা অথবা অনেক সময় দীর্ঘ ক্ষণ ক্লাসও করতে হয়। নির্মলা জানিয়েছেন, কেবল নিরাপদ ঠিকানা না থাকা যেন তাঁদের শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। তাই বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা আলাদা করে বলেছেন প্রতিটি জেলায় মেয়েদের জন্য হস্টেল তৈরির কথা। এর পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষার নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে পড়ুয়াদের জন্য উপনগরী তৈরি করা এবং মহাকাশবিজ্ঞানের পড়ুয়াদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠানে উন্নত মানের টেলিস্কোপ সমৃদ্ধ পরিকাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন নির্মলা।

এআই-এ ৫০০ কোটি

কৃত্রিম মেধা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই এখন জড়িয়ে গিয়েছে দৈনন্দিন শিক্ষার পরতে পরতে। তার প্রতিফলন দেখা গেল বাজেটেও। দেশে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে একটি এআই ইন্টেলিজেন্স সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন এডুকেশন তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এটি তৈরি হলে দেশে এ ধরনের এআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স হবে চারটি। যা উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষা বিষয়ক নানা গবেষণার মান অনেক উঁচুমাত্রায় বেঁধে দেবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

শিক্ষার ভিত স্কুলে। আর ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে। ২০২৬ সালের বাজেটে এই দু’টি বিষয়ের মধ্যেই ভারসাম্য রাখা হয়েছে। আর শিক্ষা ক্ষেত্রের ওই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও। তিনি বলেছেন, ‘‘এটি একসঙ্গেই শিক্ষার্থীদের ভাল রাখবে এবং তাঁদের ভবিষ্যৎও নিশ্চিত করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারতের যে স্বপ্ন দেখেছে সরকার। এই বাজেট সে দিকে দিশা দেখাচ্ছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন