CU exam measures

ভোট ও পরীক্ষা চলবে পাশাপাশি! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ ব্যবস্থা করছে কলেজগুলির জন্য

এই মুহূর্তে কোনও কোনও সেমেস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী কলেজ ভবনের দখল নেওয়ায় সে পরীক্ষা কী ভাবে করানো সম্ভব, বুঝেই উঠতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন অধ্যক্ষদের একাংশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৫
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

ভোট ঘোষণা হয়নি। তার আগেই রাজ্যে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে স্কুল-কলেজগুলিতে। আর তাতেই সমস্যায় পড়েছে কলকাতা শহরের কলেজগুলি। স্থানাভাবে ক্লাস করানোই সম্ভব হচ্ছে না। পরীক্ষা হবে কী ভাবে? এই প্রশ্নেই এখন বিড়ম্বনা কর্তৃপক্ষের।

Advertisement

এই মুহূর্তে কোনও কোনও সেমেস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী কলেজ ভবনের দখল নেওয়ায় সে পরীক্ষা কী ভাবে করানো সম্ভব, বুঝেই উঠতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন অধ্যক্ষদের একাংশ।

দক্ষিণ কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে শুরু করেছে। ফলে ক্লাস করাতে হচ্ছে অনলাইনে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়কে। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলও কলেজ পরিদর্শন করে গিয়েছে। চারুচন্দ্র কলেজ সূত্রে খবর, মাত্র ১০-১১টি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করানো হয়। সে সবই এখন বাহিনীর দখলে।

একই পরিস্থিতি উত্তরের শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজও। সেখানে আগামী ১০ মার্চ থেকে দু’কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং তাদের প্রযুক্তি দল থাকবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। অধ্যক্ষা মধুছন্দা লাহিড়ী বলেন, “কলকাতার কলেজগুলিতে এমনিতেই স্থানাভাব। কলেজে দু’কোম্পানি কেন্দ্রীয়বাহিনী থাকলে ক্লাস করানো সম্ভব নয়। পরীক্ষা হবে কী করে? বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখিত ভাবে আমাদের অসুবিধার কথা জানিয়েছি। সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেবেন।”

২০২৫–এর বিএ, বিএসসি, বিকম (অনার্স ও মেজর) তৃতীয় ও পঞ্চম সেমেস্টারের সঙ্গেই বৃত্তিমূলক কোর্সের তৃতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা চলবে আগামী ২৭ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এ ছাড়া বিএ, বিএসসি-র প্রথম প্র্যাকটিক্যাল চলবে ২৭ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে বিকল্প পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে বেশ কিছু কলেজ।

এ দিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালের তরফে জানা গিয়েছে, এই বিকল্প পদ্ধতির কথাই ভাবা হচ্ছে। যে সব কলেজে বাহিনী থাকছে, সেখানে পরীক্ষা নেওয়ার বদলে আশপাশের যে সব কলেজে বাহিনী থাকছে না সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি জটিল হতে পারে অনুমান করে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার কথাও জানানো হয়েছিল পরীক্ষা নিয়ামক জয়ন্ত সিংহের তরফে।

উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই কলেজগুলির সঙ্গে কথা বলেছি। তবে পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়েই হবে। আমরা আশেপাশের কলেজগুলির সঙ্গেও কথা বলছি। যে কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নেই সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হবে।”

Advertisement
আরও পড়ুন