Samagra Sikhsha Mission west Bengal

কাটছে জট, মিলবে সমগ্র শিক্ষা মিশনের বকেয়া অর্থ! কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে আশার আলো দেখছে রাজ্য

বছরে কোনও এক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে রাজ্যের সব স্কুলশিক্ষা স্তরের কর্তারা বৈঠকে বসেন। সেখানে গোটা বছরের পরিকল্পনা জমা দিতে হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১৫:৫৪

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বকেয়া টাকা হাতে পাবে রাজ্য। দিল্লির বৈঠকে এমনই মিলেছে আশ্বাস, সূত্রের খবর।

Advertisement

জানা গিয়েছে, শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক হয় রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতরের। সেখানেই কেন্দ্রের তরফে প্রতিশ্রুতি মিলেছে, সমগ্র শিক্ষা মিশনের বকেয়া তিন বছরের টাকা পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হবে। স্কুলের হস্টেল এবং কম্পোজ়িট গ্রান্টের জন্য ফের অর্থ দেওয়া শুরু হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। তবে সেই অর্থের পরিমাণ কত বা কী ভাবে সেই টাকা রাজ্যের হাতে আসবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বিশদ জানা যাবে।

বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, বছরে কোনও এক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের স্কুলশিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে রাজ্যের সব স্কুলশিক্ষা স্তরের কর্তারা বৈঠকে বসেন। সেখানে গোটা বছরের পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। সেখানেই অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গ উঠে আসে। চলতি বছর ১২ জুন এই বৈঠক হয়। এ রাজ্য থেকে দিল্লিতে যোগ দিতে যান দফতরের কয়েকজন কর্তা।

দফতরের এক কর্তা জানান, সমগ্র শিক্ষা মিশনের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে ‘পিএম’ (প্রধানমন্ত্রী) যুক্ত হওয়ায় বিরোধিতা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ না মেনে নেওয়ায় বহু প্রকল্পে যুক্ত হয়নি রাজ্য। মেলেনি বরাদ্দ অর্থও। তাই প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছিল।

এ বার রাজ্যে পালা বদলের পরে কেন্দ্রের এই সব প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে রাজ্য। এক কর্তা বলেন, ‘‘গত তিন বছরে হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন যে বকেয়া অর্থ দেওয়া হবে। তবে তাঁরা আর একটি রিভিউ মিটিং করতে চান। কয়েকদিন পরেই আমরা জানতে পারব যে ওই টাকা কী ভাবে কোন খাতে দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা যে দেওয়া হবে সেটা জানা গিয়েছে।’’

স্কুলের কম্পোজ়িট গ্রান্ট আটকে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজ চালাতে ব্যঘাত ঘটছিল। এ বার সেই টাকাও পাওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি যে সব স্কুলে হস্টেল রয়েছে সেগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে পড়ুয়ারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। আনন্দবাজার ডট কম-এ সেই প্রতিবেদন আগেই প্রকাশিত হয়েছে। এ বার সেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দ অর্থের ৬০ শতাংশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। স্কুলের পোশাক, স্কুল পিছু বরাদ্দ অর্থ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নিষ্ঠা এবং পিএম বিদ্যা টিভি চ্যানেলের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে গত ৩ বছরের বকেয়া অর্থ পাওয়া গেলে সেই সংখ্যা হতে পারে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। স্কুলশিক্ষার উন্নয়নে এই টাকা খরচ করা হলে সেটা সার্বিক ভাবে ভাল হবে বলে মত কর্তাদের।

Advertisement
আরও পড়ুন