প্রতীকী চিত্র।
ভবিষ্যৎ কোনও দুর্যোগের সম্ভাবনার কথা বলে দেয় হাওয়া অফিস। আবার জিপিএস খুলে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় যে কোনও ঠিকানায়। এমনকি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সহজেই জেনে নেওয়া যায় প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কিত তথ্য। এ সবই সম্ভব হয় জিওইনফরমেটিক্স বিষয়টির জন্য।
বিষয়টি ঠিক কী?
বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি এবং ভূগোল— এই দুইয়ের মেলবন্ধন দেখা যায় জিওইনফরমেটিক্স-এ। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিনির্ভয় এই বিষয়ে ভৌগোলিক তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করা হয়। পৃথিবী বা ভূ-পৃষ্ঠ সম্পর্কিত তথ্যের সংকলন করা হয় প্রযুক্তির সাহায্যে, যাকে বলে ডিজিটাল ডেটা তৈরি। সেই বিদ্যাই আসলে জিওইনফরমেটিক্স।
কোন কাজে আসে?
জিওইনফরমেটিক্স-এর মাধ্যমে যেমন আসন্ন দুর্যোগের কথা আগে থেকেই জানতে পারা যায়। তেমনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দুরভিসন্ধি, আকাশ পথে হানাদারিও কথাও আগেই জেনে ফেলা সম্ভব। দেশে বা বিদেশে বিভিন্ন জায়গার সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান এবং দূরত্ব খুঁজে বের করতে সাহায্য নিতে হয় জিওইনফরমেটিক্স-এর।
মূলত কী কী পড়ানো হয়
১। রিমোট সেন্সিং— স্যাটেলাইট বা ড্রোনের সাহায্যে দূর থেকে যে কোনও বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করা যায় এর মাধ্যমে।
২। জিপিএস— ভূপৃষ্ঠের অক্ষাংশ বা দ্রাঘিমাংশ বিচার করে কোনও জায়গার অবস্থান জানা যায়।
৩। জিআইএস— জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সমস্ত ভৌগোলিক তথ্য কম্পিউটারে সাজিয়ে তা বিশ্লেষণ করা হয়।
এ ছাড়াও থাকে ফটোগ্রামমিতি, কার্টোগ্রাফি, ডেটাবেস এবং প্রোগ্রামিং-এর মতো বিষয়।
কোর্স
পড়ুয়ারা বিএসসি, বিটেক, এমএসসি, এমটেক, পিজি ডিপ্লোমা করতে পারেন এই বিষয়ে। গবেষণার ইচ্ছে থাকলে রয়েছে পিএইচডি-র সুযোগ।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
বিজ্ঞান নিয়ে দ্বাদশে ন্যূনতম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হলে স্নাতকে এই বিষয় পড়া যায়। তবে গণিত থাকা জরুরি।
স্নাতকোত্তরের জন্য ভূগোল, ভূতত্ত্ব, পরিবেশ বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, কৃষিবিজ্ঞান, রাশিবিজ্ঞান, কম্পিউটারে সায়েন্স বা অন্য বিষয়ে স্নাতক হতে হয়। স্নাতকে ন্যূনতম ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ নম্বর থাকা জরুরি।
প্রবেশিকা
স্নাতকে বিটেক পড়তে চাইলে জেইই মেন বা রাজ্যের জয়েন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। স্নাতকোত্তরে এমটেক পড়ার জন্য প্রয়োজন গেট-এর স্কোর। তবে প্রতি স্তরেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত পরীক্ষার মাধ্যমেও ভর্তির সুযোগ থাকে।
কোথায় পড়ার সুযোগ?
১। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং, দেরাদুন।
২। আইআইটি কানপুর।
৩। আইআইটি বম্বে।
৪। আইআইটি খড়্গপুর।
৫। আইআইইএসটি শিবপুর।
৬। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
৭। আইআইটি রুরকি।
৮। এনআইটি রৌরকেল্লা।
৯। এনআইটি কালিকট।
১০। এনআইটি ওয়ারাঙ্গাল।
চাকরির চাহিদা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে নগর পরিকল্পনা, কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রতিরক্ষা, পরিবহণ পরিকল্পনা— বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য উপযোগী এই বিষয়। তাই বর্তমানে চাকরিক্ষেত্রে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিষয় বিশেষজ্ঞদের।
চাকরির সুযোগ
১।ইসরো
২। ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার
৩। সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
৪। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া
৫। এনডিএমএ
৬। আবহাওয়া দফতর
৭। নগর উন্নয়ন পর্ষদ
৮। পরিবেশ এবং বন দফতর।
পাশাপাশি, বেসরকারি ক্ষেত্রেও বিভিন্ন আইটি সংস্থা, কনসালটেন্সি ফার্ম, টেলিকম অ্যান্ড লজিস্টিক্স বা অন্য স্টার্ট-আপ সংস্থায় চাকরির সুযোগ মেলে।