West Bengal Day Celebration

শ্যামাপ্রসাদের অবদান নিয়ে চর্চা হোক বাম-ডান উভয় পক্ষে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে জানালেন মন্ত্রী

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে আশুতোষ শতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ইতিহাস ও বাস্তবকে চেপে রাখা হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৯:৪৪

নিজস্ব চিত্র।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে চর্চা হোক পশ্চিমবঙ্গে, এমনই চাইছে বিজেপি সরকার। শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদ্‌যাপনে যোগ দিয়ে এমনই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

Advertisement

সারা রাজ্যে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করার নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। ক্ষমতায় আসার পরই এই দিন পালন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৬ জুন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠান।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে আশুতোষ শতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহে বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দিন ইতিহাস ও বাস্তবকে চেপে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “এ বার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। আসল ইতিহাসটা সকলের জানা প্রয়োজন। আর মানুষও সেটা শুনতে চাইছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা না থাকলে আজ হয়তো পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হত।” তিনি স্পষ্টই বলেন, মানুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা শুনতে চাইছেন।

১৯৪৭-এ বঙ্গবিভাগ এবং কলকাতার ভারতভুক্তি বিষয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও। শুধু তা-ই নয়, তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম উপাচার্য। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী শুক্রবার দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে চর্চা হোক এ রাজ্যে। তিনি বলেন, “পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হোক। সেখানে থাকুক ডান-বাম উভয় পক্ষই। পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস সকলেই জানুন।

শুক্রবার বেলা দেড়টা নাগাদ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মালা দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। ইতিহাসের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ডিন রাজশেখর বসু ১৯৪৭ সালের ২০ জুন ও তার আগের কিছু ইতিহাস ব্যাখ্যা করেন। ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ পালনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানান, ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সেনেট ও সিন্ডিকেটের নানা নথি সংরক্ষিত রয়েছে। পরবর্তী বছরগুলির নথিও সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় - সহ সব প্রাক্তন উপাচার্যদের নিয়োগপত্র ও অন্য সব নথি রয়েছে, তা-ও সংগ্রহশালায় প্রদর্শনীর জন্য রাখা হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন