ছবি: সংগৃহীত।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করার দাবি তুলল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি কুটা। আগামী ১৯ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসের দ্বারভাঙ্গা ভবনের নিচে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি সনাতন চট্টোপাধ্যায়। সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবারই আনন্দবাজার ডট কমে প্রকাশিত হয়েছে, সরকারের অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা যেখানে ৬৩২ হওয়ার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র ২৮১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ ঘাটতি। অর্ধেকের বেশি পদ ফাঁকা! কলা বিভাগে ৬০ শতাংশ এবং বিজ্ঞানের বিভাগগুলিতে ৫৮ শতাংশ শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। কোথাও ২০ বছর, কোথাও ২৫ বছর কোনও নিয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে রসায়ন, গণিত, ইতিহাস, উদ্ভিদবিদ্যার মতো বিষয়গুলিতে ৬০ শতাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই। বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন এবং মেরিন সায়েন্স-এর মতো বিভাগগুলিতে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়েই কাজ চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, এর আগে বহুবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। বছর কয়েক আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও নিয়োগ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ কয়েক মাস আগে স্থায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবারই আনন্দবাজার ডট কমকে জানান, নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। সেগুলির বিষয়ে আইনজীবীদের থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। যদি সম্ভব হয় সব ক’টিতেই নিয়োগ হবে, না হলে যে সব পদে নিয়োগে কোনও আইনি জটিলতা থাকবে না সেগুলিতে প্রথমে নিয়োগ হবে। তবে সব পদেই যেন নিয়োগ হয় তার জন্য কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু শুধু এই আশ্বাসেই আশঙ্কার মেঘ কাটছে না বলে দাবি শিক্ষকদের। কুটা দাবি তুলেছে, শুধু নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নয়, সব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলনের পথ থেকে সরবেন না। সনাতন বলেন, " এ ভাবে চলতে থাকলে ঐতিহ্যের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা নষ্ট হবে। প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সকলের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সেখানে শিক্ষক নিয়োগ না করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোনও ভাবেই আমরা নষ্ট হতে দেব না। পড়ুয়া-সহ সমাজের কাছে আমরা প্রত্যেকে দায়বদ্ধ।"