মা সোমা গুহঠাকুরতার সঙ্গে সর্বজিৎ গুহঠাকুরতা। ছবি: সংগৃহীত।
পড়াশোনার প্রতি ভালবাসা আর সফল হওয়ার অদম্য জে়দ ওদের। শারীরিক বা পারিবারিক সমস্যা যেন স্তিমিত হয়ে পড়ে ইচ্ছাশক্তির কাছে। তেমনই লড়াকু রামমোহন মিশন হাইস্কুলের ছাত্র সর্বজিৎ গুহঠাকুরতা।
চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে দৃষ্টিশক্তি। তবু, আইসিএসই-তে ৯১ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া ছাত্রের স্বপ্ন ফিঁকে হয়নি। একাদশ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হবে সে, খুব ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হওয়ার। যদিও আর্থিক সঙ্গতি এবং শারীরিক শক্তি না থাকায়, তা সম্ভব হবে না, বুঝে গিয়েছে সর্বজিৎ। তবু ভেঙে পড়েনি। ভবিষ্যতে কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে চায় সে।
দশম শ্রেণির ফল ভাল হয়েছে জানতে পেরেই নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে সর্বজিতের লড়াই। তার কথায়, “আমার চোখটার জন্য খুব কষ্ট হয়। কিন্তু বাস্তবটাকে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই। লড়াইও আমি চালিয়ে যাব।” এ লড়াইয়ে তার সঙ্গী মা, সোমা গুহঠাকুরতা। বেহালার বকুলতলার বাড়িতে আপাতত দু’জনের সংসার। গণিতের এক জন গৃহশিক্ষক ছিলেন। বাকি সব বিষয়েই মায়ের কাছেই তার পড়াশোনার পাঠ। তবে সোমা বলেন, ‘‘মোবাইল ওকে খুব সাহায্য করেছে। পড়াশোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইলের ইন্টারনেট থেকেও পড়াশোনা করেছে।’’
২০২০-এ সর্বজিতের পিতৃবিয়োগ হয়। তখন সে চতুর্থ শ্রেণি। সে সময় ভরসা ছিলেন দাদামশায়। কিন্তু জামাইয়ের মৃত্যুশোক সামলাতে না পেরে এক মাসের মধ্যে মৃত্যু হয় তাঁরও। এ দিকে ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টি সমস্যা ছিল সর্বজিতের। ধীরে ধীরে ডান চোখের দৃষ্টি কমে আসছে। সোমা বলেন, “চোখের একদম সামনে কিছু ন়ড়াচড়া করলে ও বুঝতে পারে। বাঁ চোখেও দৃষ্টি কম। তবে চশমার সাহায্যে দেখতে পায়।”
এত লড়াইয়ের পরও পড়াশোনায় অনমনোযোগী হয়নি সর্বজিৎ, কোনও দিন। বরাবর পরীক্ষায়ও ভাল ফল হয়েছে। চেয়েছিল চিকিৎসক হতে। কিন্তু সত্যিই তা সম্ভব হবে না। সোমা বলেন, “চেন্নাইয়ের চিকিৎসক জানিয়েছেন ছেলের চোখে লেন্স বসালে কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু সেই লেন্সের দাম প্রায় ৭০ হাজার টাকা। সে টাকা কোথা থেকে জোগাড় হবে জানি না। ছেলে চিকিৎসক বানানো হবে না জানি। তবে পড়াশোনা ও করবে।” তিনি জানান, মা-ছেলের এই লড়াইয়ে সাহায্য করেছে স্কুল। সব রকম ভাবে সেই সহায়তা না পেলে লড়াই করা সম্ভব হত না।