Power Cut at Howrah DI Office

টাকা নেই, মেটানো যায়নি বিদ্যুৎ বিল! অন্ধকারে জেলা স্কুল পরিদর্শক অফিস, বন্ধ শিক্ষক নিয়োগের কাজও

হাওড়া থানা সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের চতুর্থ তলে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস। হাওড়ার প্রায় ৬৫০ স্কুলের শিক্ষক ও পড়ুয়ার প্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজকর্ম হয় সেখান থেকেই। এমন নজিরবিহীন ঘটনা অতীতে কখনও আদৌ ঘটেছে কি না মনে করতে পারছেন না অফিসের পুরনো কোনও প্রবীণ আধিকারিকও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ২২:০৫
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

তহবিলে টাকা নেই। মেটানো যায়নি বকেয়া বিদ্যুৎ বিল। তাই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে সংযোগ। আপাতত অন্ধকারে হাওড়ার স্কুলশিক্ষা।

Advertisement

নবান্ন থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে হাওড়া জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়। সেখানেই বাকি পড়ে রয়েছে গত জুলাই থেকে ডিসেম্বরের বিদ্যুৎ বিল। একের পর এক চিঠি এসেছে বেসরকারি বিদ্যুৎবণ্টন সংস্থার তরফে। কিন্তু প্রায় ৪৭ হাজার টাকার বকেয়া মেটাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। তাই গত ২৫ মার্চ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, হাওড়া থানা সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের চতুর্থ তলে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস। হাওড়ার প্রায় ৬৫০ স্কুলের শিক্ষক ও পড়ুয়ার প্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজকর্ম হয় সেখান থেকেই। এমন নজিরবিহীন ঘটনা অতীতে কখনও আদৌ ঘটেছে কি না মনে করতে পারছেন না অফিসের পুরনো কোনও প্রবীণ আধিকারিকও।

ওই ভবনেই রয়েছে প্রাথমিক জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়। সর্বত্র বিদ্যুৎ থাকলেও নেই মাধ্যমিকের জেলা স্কুল পরিদর্শকের কার্যালয়ে। দফতরের এক আধিকারিক জানান, বিকাশ ভবনে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরে দরবার করেও সুরাহা হয়নি।

এই মুহূর্তে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাউন্সেলিং চলছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আওতায়। সেখানে কিছু তথ্যগত ভ্রান্তির অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি। তাই শূন্যপদের তালিকা নতুন করে যাচাই করার কাজ চলছে। ফলে অতিরিক্ত ব্যস্ততা রয়েছে। এ ছাড়া, নিয়মিত কাজের মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের নানা কাজ, নানা প্রকল্পের অর্থ সংক্রান্ত হিসাবনিকাশ, পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া। এর উপর রয়েছে অতিরিক্ত নির্বাচনী দায়িত্ব।

এমন এক কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন আধিকারিকেরা। ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ। সারাদিন গরমে হাঁসফাঁস করে দিন কাটছে কর্মীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানিয়েছেন, স্কুলশিক্ষা দফতর থেকে জানানো হয়েছে, টাকা নেই।

কিন্তু, তা হলে কি কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হবে?

উত্তর মেলেনি।

প্রায় কোনও কাজই শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না গত দু’এক দিনে। শেষ পর্যন্ত জেলাশাসকের কাছে সাহায্য চাওয়ার কথা ভেবেছেন কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে টাকা এলে যদি কোনও ভাবে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ফের স্থাপন করা যায়, আশায় রয়েছেন কর্মীরা।

Advertisement
আরও পড়ুন