হরিণঘাটা ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘরের বাইরে অনশনরত শিক্ষকেরা । নিজস্ব চিত্র।
‘উপাচার্য নিখোঁজ।’ এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে পোস্টার দিলেন অনশনরত শিক্ষকেরা।
শুক্রবার মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ম্যাকাউট) হরিণঘাটা ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘরের বাইরে এই পোস্টার দেওয়া হয়। শিক্ষকদের দাবি, তাঁরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই। তার পর থেকে অস্থায়ী উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী ক্যাম্পাসে আসেননি। যদিও উপাচার্যের দাবি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধাননগর দফতর থেকে কাজ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গত ৫ মার্চ থেকে উপাচার্যের ঘরের সামনে পর্যায়ক্রমে অনশন শুরু করেন পূর্ণসময়ের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকরা। আইটি বিভাগের এনবিএ অনুমোদন চলে যাওয়া, সর্বভারতীয় কর্ম তালিকা এনআইআরএফ-এ স্থান নেমে যাওয়া, পড়ুয়া ভর্তি তলানিতে চলে যাওয়ার মতো ঘটনার জন্য তাঁরা দায়ী করছেন অস্থায়ী উপাচার্যকেই। এই পরিস্থিতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ঘটানোর দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই ৩ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভও রয়েছে। আর এই সবের জন্য তাঁরা দায়ী করছেন অস্থায়ী উপাচার্যকেই।
শিক্ষকদের দাবি, এর পর থেকে একবারের জন্যও উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেননি এবং ক্যাম্পাসেও আসেননি। যে কারণে এ দিন ‘ উপাচার্য নিখোঁজ’ এই মর্মে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দু’ঘন্টা অন্তর শিক্ষকদের রক্তচাপ পরিমাপ করার যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিক্ষকেরা।
এ প্রসঙ্গে অবশ্য উপাচার্য বলেন, ‘‘উপাচার্যের কাজ প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা করা। তা করার জন্য ক্যাম্পাসে না গেলেও চলে। সল্টলেকের অফিস থেকে সব কাজ ঠিক ভাবেই করা হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, কর্মসমিতির বৈঠকে চুক্তিভিত্তিক পূর্ণ সময়ের শিক্ষকদের বেতনকাঠামো এবং বার্ষিক ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়নি। অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে তাঁর নতুন করে কিছু করার ক্ষমতা নেই বলেও জানিয়েছেন তাপস।
উপাচার্যের ঘরের বাইরে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পোস্টার।
যদিও তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার ম্যাকাউট শাখার সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত কয়াল বলে, ‘‘উপাচার্য মিথ্যাচার করছেন। এ বিষয়ে উল্লেখ যে ছিল, তা উপাচার্য আগে স্বীকার করেছেন।” রক্তচাপ পরিমাপের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়া নিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, অনশনরত অবস্থায় কোনও শিক্ষকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার দায় উপাচার্যকেই নিতে হবে। অস্থায়ী উপাচার্য হয়ে স্থায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য ‘কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম’ চালু করে বেআইনি কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। সুশান্ত বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে উপাচার্য আসতে পারলেও এই ক্যাম্পাসে তিনি আসছেন না, আসলে তিনি আমাদের মুখোমুখি হতেই ভয় পাচ্ছেন।’’