WBCHSE Board Hs Exam

প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার খাতা আদৌ সুরক্ষিত! নম্বর নিয়েও উদ্বেগ শিক্ষক মহলের একাংশের, কী বলছে সংসদ

২০২০-এর আগেও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নিতেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকেরাই। নম্বরও দিতেন তাঁরাই। কিন্তু ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক অর্থাৎ যিনি ‘সেন্টার ইনচার্জ’ তাঁর সই সম্বলিত খাতা পৌঁছে যেত প্রধান পরীক্ষকের কাছে। তিনি খাতা ফের যাচাই করে প্রাপ্ত নম্বর মিলিয়ে দেখে নিতেন। তার পর সেই নম্বর এবং খাতা সংসদের কাছে জমা পড়ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৭
প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার খাতা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষক মহলে!

প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার খাতা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষক মহলে! ছবি: সংগৃহীত।

যিনিই পরীক্ষা নেন, তিনিই খাতা দেখে নম্বর দেন। আবার সে খাতা থেকে যায় তাঁরই কাছে। প্রাপ্ত নম্বর যাচাই করার যেমন কোনও উপায় থাকে না পড়ুয়ার কাছে, তেমনই খাতার হদিস পায় না উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

Advertisement

শিক্ষকদের দাবি, ২০২০ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় এই নিয়ম চালু রয়েছে। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে কিছু খাতার প্রথমপাতার ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক মাথা তুলেছে। ওই খাতা উচ্চ মাধ্যমিকের পদার্থবিদ্যার প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার বলেই দাবি শিক্ষকদের।

যদিও সংসদের তরফে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে, আদৌ ওই খাতা উচ্চ মাধ্যমিকের কি না, তা নিয়ে। কিন্তু শিক্ষকদের একাংশের দাবি, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার নামে আদতে প্রহসন চলছে উচ্চ মাধ্যমিকে। তাঁদের দাবি খাতার সুরক্ষার দায়িত্ব সংসদকেই নিতে হবে।

আগে কী নিয়ম ছিল?

শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ২০২০-এর আগেও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নিতেন সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকেরাই। নম্বরও দিতেন তাঁরাই। কিন্তু ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক অর্থাৎ যিনি ‘সেন্টার ইনচার্জ’ তাঁর সই সম্বলিত খাতা পৌঁছে যেত প্রধান পরীক্ষকের কাছে। তিনি খাতা ফের যাচাই করে প্রাপ্ত নম্বর মিলিয়ে দেখে নিতেন। তার পর সেই নম্বর এবং খাতা সংসদের কাছে জমা পড়ত। অর্থাৎ পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর যেমন যাচাই হত, তেমনই সে খাতা সংরক্ষণ করত সংসদ।

বর্তমানে কী নিয়ম চালু রয়েছে?

শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, পুষ্টিবিজ্ঞান, ভূগোল, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মতো বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হয় সংশ্লিষ্ট স্কুলেই। এই পরীক্ষার জন্য ৩০ নম্বর ধার্য থাকে। যিনি পরীক্ষক তিনিই খাতা দেখেন। তার পর কোনও ক্ষেত্রে সেটি প্রধানশিক্ষকের কাছে জমা পড়ে, কখনও আবার তা-ও পড়ে না।

নিয়ম অনুযায়ী প্রধানশিক্ষক বা সেন্টার ইনচার্জের সই বা স্ক্যান করা সই থাকার কথা খাতায়। যে হেতু সেই খাতার ফের কোনও যাচাই হয় না বা, সংসদের কাছেও সেটা ফেরতও আসে না। সে কারণে বহু ক্ষেত্রেই সেই খাতা থেকে যায় শিক্ষকের কাছে। শুক্রবার যে খাতার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে কোনও সেন্টার ইনচার্জের সই নেই বলে দাবি সংসদের। তাই খাতা আদৌ উচ্চ মাধ্যমিক প্র্যাকটিক্যালের কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, সারা রাজ্যে এ রকম হাজার হাজার খাতা পাওয়া যেতে পারে, যেখানে প্রধানশিক্ষকের কোনও সই নেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি স্কুল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু বলেন, ‘‘শিক্ষকেরা যে নম্বর দিচ্ছেন তার মূল্যায়ন যে ঠিকমত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার কেউ নেই। এ ভাবে চলতে পারে না। পরীক্ষার নামে তো প্রহসন চলছে।’’

পাশাপাশি ওই খাতা শিক্ষকের কাছেই থেকে যাচ্ছে। সংসদকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন সৌগত। যে খাতার ছবি সমাজমাধ্যমে দেখা গিয়েছে, তা কোথাকার খাতা, কী ভাবে তার ছবি ফাঁস হল, তা নিয়ে দ্রুত তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, আগে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা স্কুলে হলেও একজন পরীক্ষক আসতেন বাইরের কোনও স্কুল থেকে। এখন আর আসেন না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষা ছাড়াই পড়ুয়াকে স্কুলে ডেকে নম্বর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নীতির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “গোটা শিক্ষা ক্ষেত্রেই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাদের ভ্রান্ত নীতির জন্যেই গোটা সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সংসদকে দায়িত্ব নিতেই হবে। এই নিয়ম বদলের প্রয়োজন।’’

সংসদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজমাধ্যমে যে খাতার ছবি দেখা গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্র্যাকটিকাল পরীক্ষার বিষয়ে সংসদের বক্তব্য, এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এখনই এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন