higher education in west bengal

ক্যাম্পাসের পরিবেশ বদলে নতুন করে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে! রাজ্যে পুনরুত্থানের ডাক অর্থমন্ত্রীর

‘ব্রেন ড্রেন’ রাজ্যের একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্যে রাজ্যের মেধা রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়া নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সেই চিত্র বিগত সরকারের আমলেও খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। এবারে রাজ্যের নতুন সরকারের আমলে শিক্ষার সামগ্রিক চিত্রের বদল হয় কিনা সেটা নিয়েই আলোচনায় শিক্ষামহল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৮:৩৬
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ছবি : ফাইল চিত্র।

রাজ্যে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বদনাম হয়ে গিয়েছে। দুর্নীতি সহ নানা কারণে পড়ুয়ারা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আগের পরিবেশ ফেরাতে হবে। রবিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ শতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহে নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের বার্ষিক সভায় এসে এ ভাবেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অতীতে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাঙালীর যে আগ্রহ ছিল সেটা ফিরিয়ে আনতে সকলকে উদ্যোগী হতে আহ্বান করেন তিনি।

Advertisement

শনিবার শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালনের সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরনো ঐতিহ্য ফেরাতে সরকার সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু তার আগে কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যেতে হবে। এ দিনও সেই দায়িত্ব অধ্যক্ষদের নিতে বলে তিনি। মন্ত্রী এ দিন জানান, নতুন নতুন কোর্স শুরু করার প্রয়োজন। কিন্তু শুধু কোর্স চালু করলেই হবে না। পরিবেশ ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘ক্যাম্পাসের মধ্যে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন পড়াশোনার গুরুত্ব ফিরে আসে। এখানে তো পরিবেশটাই ঠিক নেই।’’ তিনি আক্ষেপের সুরে জানান অতীতে বাঙালীর উচ্চশিক্ষার প্রতি যে আগ্রহ ছিল তা রাজনৈতিক সহ নানা কারণে কমে গিয়েছে। উচ্চশিক্ষার বদনাম হয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে হবে।

এক্ষেত্রে অবশ্য বিশেষ ভাবে অধ্যাপকদের উদ্যোগী হতে বলেন তিনি। তাঁর মত, কোন কোন ক্ষেত্রে এবং কী ভাবে বদল প্রয়োজন সেটা অধ্যাপকদের কাছ থেকেই প্রস্তাব আসা উচিত। তারপরে সরকার সেগুলি যাচাই করে কাজ শুরু করতে পারব। তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতি, অগোছালো ব্যবস্থা সহ নানা কারণে ছাত্রছাত্রীরা অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। সেই জায়গাটা নিয়ে আমাদের সকলকে ভাবতে হবে।’’ পুনরুত্থানের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি।

এর পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাকে সুবিন্যস্ত ভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন মন্ত্রী। কলেজে অনেক ধরনের শিক্ষক রয়েছেন। কোথাও চুক্তিভিত্তিক, কোথাও স্যাক্ট। তিনি বলেন, ‘‘ বহু মানুষ আমার কাছে এসে বলছেন তাঁদের বিষয়টা দেখতে। আমি বললাম বাজেটে তো টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলছেন যে তাঁরা এর মধ্যে পড়েন না। আমি তো বুঝে উঠতে পারছি না কোন শিক্ষকদের কোনটার মধ্যে রাখব। একটা অগোছালো ব্যাপার হয়ে রয়েছে।’’ এই পুরো ব্যবস্থাকে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজ্যের পালাবদলের পরে গোটা দেশ এই রাজ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এছাড়া ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ার জন্যে বর্তমানে এই রাজ্য অনেক সুযোগ সুবিধা পাবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তার জন্যে লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে মত মন্ত্রীর।

শিক্ষামহলের মতে ‘ব্রেন ড্রেন’ এই রাজ্যের একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্যে রাজ্যের মেধা রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়া নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সেই চিত্র বিগত সরকারের আমলেও খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি। এবারে রাজ্যের নতুন সরকারের আমলে শিক্ষার সামগ্রিক চিত্রের বদল হয় কি না সেটা নিয়েই আলোচনায় শিক্ষামহল।

Advertisement
আরও পড়ুন