ছবি: সংগৃহীত।
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের সরকারি বইয়ে হাজারের বেশি ভুল। কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি তিন সদস্যের কমিটিকে তদন্তের ভার দিয়েছিলেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে শুক্রবার এসইআরটি-সহ শিক্ষা বিভাগের চার কর্তাকে নিলম্বিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট কমিশনার ডিকে সিংহ।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, যে চার জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন— ডিরেক্টরেট অফ টিচার এডুকেশন এবং স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এসসিইআরটি) প্রাক্তন অধিকর্তা মনোজ পধি, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর প্রতিলিপ্ত মিশ্র, দিলীপকুমার সাহু এবং ভারতী টুডু।
জানা গিয়েছে, ভুলে ভরা বই সম্পাদনার সময় বিষয়বস্তু যাচাই করে নেওয়া হয়নি, গাফিলতি ছিল। কমিটির দেওয়ার রিপোর্টের ভিত্তিতে ছ’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বন্দিতা পট্টনায়ক, মানসরঞ্জন রাউত, বিনোদ মহাপাত্র, প্রশান্তকুমার সাহু, মানসকুমার নায়ক এবং সুদর্শন সান্থারার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। কমিটির তরফে পাঠ্যের তথ্য সংশোধন এবং পরবর্তীতে বই প্রস্তুতির জন্য মোট ১৪ দফার কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ওড়িশার প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে আইজ্যাক নিউটনকে বিশ্বমানের পাইলট এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী হাম্পির ছবিতে লেখা হয়েছে কোণার্ক মন্দির। ওড়িশার বিধানসভার জায়গায় ছাপানো হয়েছে কর্নাটকের বিধানসভার ছবি। একে ‘মুদ্রণ প্রমাদ’ হিসাবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন ওড়িশার রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্ড।
ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ায় ওড়িশা সরকার দাবি করে, নতুন করে পাঠ্যবই ছাপানো সম্ভব নয়। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা নতুন বই পাবেন ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে। সেখানে ভ্রম সংশোধন করে নেওয়া হবে। এসসিইআরটি অধিকর্তা মধুমিতা সাহু বলেন, “আপাতত শিক্ষকেরা বইয়ের ত্রুটি সংশোধন করে প্রাথমিকের পড়ুয়াদের সঠিক বিষয়গুলি শেখাবেন। উচ্চ প্রাথমিকের ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা নিজেই ভুলগুলি সংশোধন করে নিতে পারবে। এতে তাদের শেখার আগ্রহও বাড়বে।”