(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল। (ডান দিকে) সিয়া গয়াল। ছবি: সংগৃহীত।
পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালকে কেন খুন হতে হল? অভিযুক্ত সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরীর পরস্পরবিরোধী বয়ানে খুনের আসল কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি তত্ত্ব প্রকাশ্যে এসেছে ঠিকই, কিন্তু তদন্তকারীদের ধারণা, আসল কারণ জানতে সিয়া এবং চেতনকে আরও জেরা করা প্রয়োজন। ফলে কখনও দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে, কখনও আলাদা ভাবে জেরার পর্ব চলছেই। তার মধ্যে শুক্রবার পরচুলা তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টা আরও ঘোরালো হয়েছে।
দ্য টাইম্স অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেরায় পুণে গ্রামীণ পুলিশের কাছে সিয়া দাবি করেছেন, কেতন পরচুলা পরতেন। এটা তাঁর পছন্দ ছিল না। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরচুলার বিষয়টি জানার পরেও কেন তিনি এই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন? কেন তিনি নিজের পরিবারকে সব কথা খুলে বললেন না? তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া দাবি করেন, পরিবারের ভাবমূর্তি এবং বাবা-মায়ের সম্মান যাতে নষ্ট না হয়, সে কারণেই এই বিয়েতে মত দিতে হয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, কেন কেতনকে খুন করতে হল, এই প্রশ্নও করা হয়েছিল সিয়াকে। তখন তিনি দাবি করেন, ‘বিয়ে করব না’— এ কথাটা বাড়িতে জানানোর সাহস ছিল না তাঁর। তার চেয়ে কেতনকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া অনেক সহজ কাজ ছিল। সিয়ার এই ধরনের জবাবে স্তম্ভিত হয়ে যান তদন্তকারীরাও। সিয়ার এই বয়ানকে তদন্তের স্বার্থে রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারী সূত্রের খবর, পুলিশের কাছে সিয়া দাবি করেছেন, কেতনকে তিনি জানিয়েছিলেন তাঁকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেতনই এই বিয়ে ভাঙতে চাননি। তাই তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। যদিও কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল দাবি করেছেন, তাঁর পুত্র যে পরচুলা পরতেন সেটা সিয়ার পরিবারের কাছে গোপন করা হয়নি। সিয়াও কোনও আপত্তি জানাননি। তাই পরচুলার কারণে কেতনকে খুন করা হয়েছে, এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই জানিয়েছেন বিশাল।
সিয়ার ভাই সাহিল গয়ালকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, চেতনের সঙ্গে সিয়ার এই সম্পর্কের কথা তিনি এবং তাঁর পরিবারের সকলেই জানতেন। কিন্তু চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানার পরই তাতে আপত্তি জানিয়েছিল সিয়ার পরিবার। সূত্রের খবর, আর্থিক অবস্থার দিক থেকে চেতন তাদের সমতুল্য নয়, এই ধারণার জেরে সিয়াকে চেতনের থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল পরিবার। কিন্তু গোপনে দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, চেতনের কাছ থেকে সিয়াকে দূরে সরানোর জন্যই অগ্রবাল পরিবারের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা শুরু করে গয়াল পরিবার। কিন্তু তার পরিণতি যে এতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা কল্পনা করতে পারেননি দুই পরিবারের কেউই। প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন কেতনকে লোণবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে খুন করার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু কেতনকে কেন খুন করা হল, তার আসল কারণ কী, এখন তা ঘিরেই রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।