Jadavpur University Dog 206

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনে থাকে কুকুরের পাল! নয়া অভিযোগে বিদ্ধ যাদবপুরে, স্মারকলিপি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার দাবি, একবার ওই ফ্ল্যাটের জানলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল একটি কুকুর। তার পর থেকে জানলা বন্ধ করে দিয়ে গিয়েছেন ফ্ল্যাটের মালিক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৯:০৫
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।

এ বার আলোচনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা।

Advertisement

অভিযোগ, সাত তলা ভবনের পাঁচতলার একটি ঘরেই বহু বছর ধরে একদল কুকুরকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই ভবনে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীরা। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, একটি ঘরে প্রায় ১০টি কুকুর থাকে। দিনের এক বার এক ব্যক্তি এসে তাদের খাবার দিয়ে যান। বাকি সময়ে ওই কুকুরের দলটি থাকে ঘরের মধ্যেই। এ নিয়ে খানিক ক্ষোভ রয়েছে পড়শিদের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দার দাবি, একবার ওই ফ্ল্যাটের জানলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল একটি কুকুর। তার পর থেকে জানলা বন্ধ করে দিয়ে গিয়েছেন ফ্ল্যাটের মালিক।

গত এক মাস ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কুকুরের উৎপাত নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে। শুক্রবার নতুন করে এই ঘটনা সামনে আসতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

শুক্রবার ক্যাম্পাসের ভিতরে যে সব পড়ুয়া, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা থাকেন তাঁরা রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে আবাসনে থাকা এক শিক্ষাকর্মী জানান, স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে ওই ঘরটি আদতে এক অধ্যাপকের। গত বেশ কয়েক বছর তিনি সেখানে থাকেন না। কিন্তু কুকুরগুলি রয়ে গিয়েছে তাঁর নামে বরাদ্দ ঘরে। ওই কর্মী বলেন, “১০-১২টা কুকুরের চিৎকারে আমরা অতিষ্ঠ। আবার বেচারা কুকুরগুলিও ঘরে বন্দি হয়ে থাকে। দিনের আলো দেখতে পায় না। এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত।” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘এ ভাবে ওদের আটকে রাখা বেআইনি কাজ। যাদবপুরের মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কাজ হচ্ছে এটাই অদ্ভুত।’’ এ ছাড়া দাবি উঠেছে, যে সব আবাসনে শিক্ষক, পড়ুয়া এবং শিক্ষাকর্মীরা থাকেন সেগুলিকে দ্রুততার সঙ্গে ঘিরে ফেলতে হবে। যাতে ওই অংশে বাইরের কোনও কুকুর না প্রবেশ করতে পারে। কারণ ক্যাম্পাসের ভিতরে কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ।

এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘ভোর বেলায় বা রাতে বাড়ির বাইরে বেরতে পারি না। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি।’’ স্মারকলিপিতে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের ভিতর যদি কাউকে কুকুরে কামড়ায়, তা হলে তাঁর যাবতীয় চিকিৎসার ভার বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে।

গত কয়েক দিনে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসায় অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের তত্ত্বাবধানে কুকুরের নির্বীজকরণ করাতে হবে বলেও দাবি উঠেছে।

গত ১ মে বাইরে থেকে আসা একটি কুকুর একদিনে ৩২ জনকে কামড়েছে বলে দাবি কমিটির এক সদস্যের। শুধু মানুষ নয়, ওই পাগল কুকুরটি অন্য বেশ কিছু কুকুরকেও কামড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। কিন্তু তাকে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।

কমিটি সুপারিশ করেছে, প্রধান ফটকের সামনে ক্যাম্পাসের রাস্তার মধ্যে বা ক্যান্টিনের কাছে খাবার দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি কুকুরদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেই সুপারিশও করা হয়েছে। কিন্তু সেই সুপারিশের এখনও কিছুই মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

Advertisement
আরও পড়ুন