Career in Genomics

জিনের নাড়ি-নক্ষত্রেই লেখা রোগের ভবিতব্য! কী ভাবে প্রস্তত হতে হবে জেনোমিক্স পড়ার জন্য?

জেনোমিক্স একটি আন্তঃবিভাগীয় বিষয়। জীবনবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স এবং পরিসংখ্যানের মেলবন্ধন দেখা যায় এই বিষয়ে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

শুধু মানবদেহ নয়, যে কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদ জগতের রহস্য তলিয়ে দেখে বিজ্ঞান। জীবনবিজ্ঞানের যে শাখা জীবজগতের জিনের গঠন, কাজ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে তাকে জেনোমিক্স বলে। বিজ্ঞানের এই অত্যাধুনিক শাখায় কোনও নির্দিষ্ট জিন নিয়ে গবেষণা করে না। বরং জিনের সম্পূর্ণ সেট কী ভাবে কাজ করে, পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলে জিনের গঠন কতটা পরিবর্তিত হয়, তারও হদিস দেয় জেনোমিক্স।

Advertisement

জেনোমিক্স বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডিএনএ সিকোয়েন্সিং, জিন শনাক্তকরণ এবং বিশ্লেষণের কাজ করে জেনোমিক্স, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এই বিষয়ের প্রয়োগ অবশ্যম্ভাবী।

১। মানবশরীরে জিনের গঠন দেখে কোন শরীর কোন ওষুধ সবচেয়ে কার্যকর হবে বা সে ক্ষেত্রে কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা জানা যায়। যা ওষুধ তৈরিতে নানা ভাবে সাহায্য করে।

২। ক্যানসারের কোষের জেনেটিক পরিবর্তনকে বিশ্লেষণ করে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি বাতলে দিতে সাহায্য করে।

৩। ফসলের জিনোম কী ভাবে পরিবর্তন করে উৎপাদন বাড়ানো যায়, তা-ও বলে দেওয়া যায় জেনোমিক্সের সাহায্যে।

৪। কোভিড ১৯-এর মতো সংক্রামক রোগের ভাইরাসের নতুন রূপ শনাক্ত করা সম্ভব হয় জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে।

কী কী কোর্স?

জেনোমিক্স একটি আন্তঃবিভাগীয় বিষয়। জীবনবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স এবং পরিসংখ্যানের মেলবন্ধন দেখা যায় এই বিষয়ে। এই বিষয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি এবং জেনেটিক্স।

দেশের খুব কম প্রতিষ্ঠানেই স্নাতক স্তরে জেনোমিক্স বিষয়টি পড়ানো হয়। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই জেনেটিক্সে বিএসসি, জেনেটিক্স এবং জেনোমিক্সে বিএসসি, বায়োটেকনোলজিতে বিএসসি।

স্নাতকোত্তরে জেনোমিক্স বা জেনেটিক্সে এমএসসি, ক্লিনিক্যাল জেনোমিক্সে এমএসসি, হিউম্যান জেনেটিক্স অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি এমএসসি, বায়োইনফরমেটিক্সে বা কম্পিউটেশনাল জেনোমিক্সে এমএসসি, বায়োমেডিক্যাল জেনেটিক্স বা বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস এমএসসি থাকতে হবে।

গবেষণার জন্য পড়ুয়াদের পিএইচডি থাকতে হবে।

কোথায় কোথায় পড়ানো হয়?

১। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

২। পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়

৩। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জেনোমিক্স, কল্যাণী

৪। সিএসআইআর-ইনস্টিটিউট অফ জেনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি, নয়া দিল্লি

৫। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়

৬। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োকজিক্যাল সায়েন্সেস, বেঙ্গালুরু

৭। ব্রিক-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যান্ট জেনোম রিসার্চ, নয়া দিল্লি

৮। টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, মুম্বই

চাকরির সুযোগ কেমন?

কোর্স শেষে পড়ুয়ারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এ ছাড়া, ডায়গনস্টিক ল্যাব, বায়োটেকনোলজি ল্যাব, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, ফরেন্সিক ল্যাব বা কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত সংস্থাতেও কাজের সুযোগ মেলে।

Advertisement
আরও পড়ুন