প্রতীকী চিত্র।
ব্যবসায়িক দুনিয়ার সঙ্গে পরিচিত হতে অনেকেই এমবিএ করতে চান। কিন্তু যদি তার আগেই কেউ এই জগতের খুঁটিনাটি জানতে চান, তা হলে বিকল্প হতে পারে ব্যাচলর অফ বিজ়নেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) কোর্স। বর্তমানে এই কোর্স বেশ জনপ্রিয়। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি প্রচলিত মূল ধারার পাঠক্রম নয়, একটি পেশাদারি বা পেশাভিত্তিক পাঠক্রমও। এ ছাড়া, অন্য কারণে বিবিএ করতে পারেন পড়ুয়ারা।
কেন বিবিএ করা প্রয়োজন?
১। দ্বাদশের চৌকাঠ পেরিয়েই এই কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকে। পড়ুয়ারা তাই আগে ভাগেই বিভিন্ন ক্ষেত্রের সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার ব্যবসায়িক দিক সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। জেনে নিতে পারেন ফিন্যান্স, মার্কেটিং, সেলস, হিউম্যান রিসোর্স এবং অপারেশন্স-সংক্রান্ত খুঁটিনাটি।
২। বিবিএ-তে শুধুই বইমুখী পড়াশোনা বা ক্লাস লেকচারের মাধ্যমে পঠনপাঠন হয় না। পড়ুয়াদের কেস স্টাডি, গ্রুপ ডিসকাশন, প্রেজ়েন্টেশন এবং ইন্টার্নশিপে যোগ দিতে হয়। ফলে পড়ুয়ারা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন। বৃদ্ধি পায় তাঁদের সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা। যা পেশাজগতে তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হয়।
৩। যাঁরা বিবিএ করেছেন, তাঁরা এমবিএ-তে ভর্তি হলে অনেক সহজেই জটিল বিষয়গুলি বুঝে নিতে পারেন।
৪। বিবিএ-তে ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকায় কাজের জগত সম্পর্কে আগেই বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। ব্যবসায়িক বোধ তৈরি হওয়ায় পড়ুয়ারা সহজেই ব্যাঙ্কিং, বহুজাতিক সংস্থা, আইটি সংস্থা বা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরির সুযোগ পান।
৫। বিবিএ পড়াকালীন বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং কর্পোরেট জগতের অভিজ্ঞ পেশাদারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ মেলে। পরিচিতির পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোর্স শেষে চাকরি পেতে কিছুটা সুবিধা হয় পড়ুয়াদের।
৫। বর্তমানে অনেকেই নিজেদের ব্যবসা বা স্টার্ট-আপ সংস্থা গড়ে তুলতে চান। হয়ে উঠতে চান উদ্যোগপতি। তাই বিবিএ কোর্স করলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি, আর্থিক ঝুঁকি, লাভক্ষতির হিসাব বুঝে নিতে সুবিধা হয় তাঁদের।
কারা পড়তে পারেন?
যে কোনও বিভাগ থেকে দ্বাদশে ন্যূনতম ৪০-৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হলেই এই কোর্সে ভর্তির আবেদন করা যায়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে দ্বাদশে ইংরেজি এবং অঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
আগ্রহীদের কোন পরীক্ষা দিতে হবে?
কোর্সে ভর্তির জন্য কুয়েট, প্রতিষ্ঠানের তরফে আয়োজিত প্রবেশিকা অথবা দ্বাদশে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হয়।
কোন কোন পদে চাকরির সুযোগ?
সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থায় নানা পদে চাকরির সুযোগ মেলে।
১। মার্কেটিং এগ্জ়িকিউটিভ
২। বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এগ্জ়িকিউটিভ
৩। ম্যানেজমেন্ট ট্রেনি
৪।সেলস ম্যানেজার
৫। ফিনানশিয়াল অ্যানালিস্ট
৬। ক্রেডিট অ্যানালিস্ট
৭। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং অ্যাসোসিয়েট
৮। এইচ আর এগ্জ়িকিউটিভ
৯। বিজ়নেস অ্যানালিস্ট
১০। ডেটা অ্যানালিস্ট
১১। ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট
বেতন কেমন হতে পারে?
কোন সংস্থার কোন পদে নিয়োগ হচ্ছে, তার ভিত্তিতে ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে পারে ৫ লক্ষ টাকা।