ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
তরুণ প্রজন্মের শিক্ষাকে কর্মোপযোগী করে তুলতে চাইছে নীতি আয়োগ। সেই লক্ষ্যেই গঠিত হয়েছে ‘এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ়’ কমিটি। প্রথম বৈঠকেই ২০৪৭-এর লক্ষ্যে কী ভাবে এগোনো যায়, তা নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে। এ বার রাজ্যের নিউ আলিপুর কলেজেও উঠে নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও উদ্ভাবনের প্রতি আকৃষ্ট করার কথা।
‘পশ্চিমবঙ্গে শিল্প: স্মৃতি, সত্তা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ঐতিহ্য, শিল্পায়নের ইতিহাস, বর্তমান প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ— সবই তুলে ধরা হয় তাঁদের সামনে। অতীতের কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চল এক সময় ছিল সমগ্র ভারতের শিল্প-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শিক্ষাবিদ মোহিত রায় বলেন, “ঠাকুরবাড়ির সফল ব্যবসায়ী প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর, পুস্তক ব্যবসায়ী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বেঙ্গল কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বাঙালির গর্ব। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে শিল্প ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও উদ্ভাবনের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে।”
২০৪৭ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের মোট পরিষেবা বাণিজ্যের ১০ শতাংশে যাতে ভারতীয় যুব সম্প্রদায়ের অংশীদারিত্ব থাকে, তারই লক্ষ্য স্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে নীতি আয়োগ। ভারতের তরুণ প্রজন্মকে কাজের উপযোগী করে তুলে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নই নীতি আয়োগের (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া) লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুর কলেজের আলোচনাতেও উঠে এল এমনই কথা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে শিল্পক্ষেত্রে যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা কাটিয়ে উঠতে হলে নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও উদ্ভাবনের প্রতি আকৃষ্ট করার কথা। মাঝারি বা ক্ষুদ্রশিল্প বিশেষ কোনও দিক নির্দেশ করতে পারেনি বলেই মনে করছেন শিল্পোদ্যোগী শুভময় মাইতি। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত অবকাঠামো এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য বলেই মত তাঁর।
অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, ‘‘পড়ুয়ারা যাতে স্নাতকের পর শুধু চাকরি করার লক্ষ্যে আটকে না থেকে নিজেদের উদ্যোগপতি হিসাবে তৈরি করতে পারেন, সেই পথ দেখানোর উদ্দেশ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।’’