School Book Blunders

ফের ‘মুদ্রণ প্রমাদ’! স্কুলপাঠ্যে ঐশ্বর্যা রাইয়ের ছবির গান, রয়েছে ‘মিশন কাশ্মীর’-এর উল্লেখও

প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে লোকগীতির বিভাগে ‘হম দিল দে চুকে সনম’ এবং ‘মিশন কাশ্মীর’ ছবির তিনটি গান লেখা রয়েছে। এ ছাড়াও ওড়িয়া লোকগীতি ‘রাজা ডোলি’-র গানের কথাও ছাপানো হয়েছে স্কুলপাঠ্যে। ঘটনার জেরে ফের বিতর্কের মুখে ওড়িশা সরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১০:২০

ছবি: সংগৃহীত।

স্কুলপাঠ্যে লেখা রয়েছে ‘হম দিল দে চুকে সনম’ এবং ‘মিশন কাশ্মীর’ ছবির তিনটি গান। তৃতীয় এবং পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে লোকগীতির উদাহরণ হিসাবে ওই ছবির নির্দিষ্ট কিছু গানের সম্পূর্ণ কথা ছাপানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্কুলের বইয়ে আইজ্যাক নিউটনকে বিশ্বমানের পাইলট, বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী হাম্পির নামের পাশে কোণার্ক মন্দিরের ছবি থাকায় বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে ওড়িশা সরকারকে।

Advertisement

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তৃতীয় শ্রেণির আর্ট এডুকেশন বিষয়ক বইয়ের লোকগীতি বিভাগে ছাপানো হয়েছে হিন্দি ছবির গান। সংবাদমাধ্যমের কাছে পড়ুয়াদের প্রশ্ন, লোকগীতির বদলে হিন্দি সিনেমার গান শিখে কী করবে তারা? এক পড়ুয়া এও বলে, “এর বদলে ওড়িয়া ভাষার কোনও গান লেখা হলে, কিছু শেখা যেত।” জানা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে ওড়িয়া লোকগীতি ‘রাজা ডোলি’-র গানের কথা ছাপানো হয়েছে।

বইয়ের নির্দিষ্ট সেই পাতার ছবি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিয়োটি দেখে ওড়িশা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ বর্ষা একনাথ গায়েকোয়াড়। তিনি লিখেছেন, “এই ঘটনা আমাকে একটি বিখ্যাত মজার বিষয় মনে করিয়ে দিল। এক পড়ুয়া পরীক্ষার খাতায় ‘শোলে’ ছবির কাহিনি লিখে এসেছিল। এই বইয়ের ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের লেখক তা-ই করে দেখালেন।”

চলতি মাসেই স্কুলপাঠ্যে হাজারেরও বেশি ভুল খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তাতে আইজ্যাক নিউটনকে বিশ্বমানের পাইলট বলা হয়েছে এবং বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী হাম্পির ছবিতে লেখা হয়েছে কোণার্ক মন্দির। ওড়িশার বিধানসভার জায়গায় ছাপানো হয়েছে কর্নাটকের বিধানসভার ছবি। একে ‘মুদ্রণ প্রমাদ’ হিসাবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন ওড়িশার রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষামন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্ড।

ঘটনার জেরে ডিরেক্টরেট অফ টিচার এডুকেশন এবং স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর (এসসিইআরটি) চারজনকে নিলম্বিত করেন মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। সূত্রের খবর, ভুলে ভরা বই সম্পাদনার সময় বিষয়বস্তু যাচাই করে নেওয়া হয়নি, গাফিলতি ছিল। কমিটির দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে ছ’জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। তারই মাঝে ফের ছাপার ভুলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় পাঠ্যবইয়ের সম্পাদনা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রাথমিকের বই নিয়ে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করেনি রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষা বিভাগ।

Advertisement
আরও পড়ুন