ছবি: সংগৃহীত।
সারা দেশে একই দিনে নিট ইউজি-র আয়োজন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলল লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ১ জুলাই কেন্দ্রের শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব এবং ক্রীড়া বিষয়ক ওই কমিটি-র বৈঠকে জানানো হয়, একই দিনের বদলে একাধিক পর্বে ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে নিট ইউজি-র আয়োজন করা যেতে পারে। তাতে কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন বলেই মত প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যেরা।
সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি-র চেয়ারম্যান, কংগ্রেস সাংসদ মুকুল ওয়াসনিকের নেতৃত্বে কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশী এবং এনটিএ অধিকর্তা অভিষেক সিংহও। জানা গিয়েছে, বৈঠকে সাংসদদের একাংশ ইউপিএসই-র মতো আলাদা আলাদা দিনে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব রাখেন।
৩ মে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর নতুন করে ২১ জুন ওই প্রবেশিকা নেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, কী কারণে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটল এবং সে জন্য পরীক্ষার্থীদের যে চাপের মুখে পড়তে হয়েছে— তার জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা জানতে চায় কমিটি। একই সঙ্গে পুনঃপরীক্ষার জন্য কী কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এনটিএ, তার বিশদ ব্যাখ্যা শোনেন লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যেরা।
তবে, সুরক্ষিত ভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা আয়োজনের প্রশংসাও করেন কংগ্রেস সাংসদ মুকুল ওয়াসনিক। তবে, পরের বছর থেকে কম্পিউটার বেসড টেস্ট (সিবিটি) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক এলাকার কেন্দ্রে পরিমাণ মতো কম্পিউটার, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটি। এ ছাড়াও এ বারের পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের পরে যাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কেউ দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পরও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাননি, কারও অভিভাবক কান্নায় ভেঙে পড়েছেন— এমন ঘটনার বিষয়ে এনটিএ-কে সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে লোকসভা কমিটি।
তবে, সংবাদসংস্থা সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের সাপেক্ষে ধাপে ধাপে নিট ইউজি-র আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপ করা সম্ভব কি না, তার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন এনটিএ অধিকর্তা।
যে হেতু এনটিএ সরকার দ্বারা স্বীকৃত কোনও পরীক্ষক সংস্থা বা ‘স্ট্যাটুটারি বডি’ নয়, তাই পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রক এবং সরকারি বিভাগের সাহায্য নিতে হয়। লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে ওই সংস্থাকে ‘স্ট্যাটুটারি বডি’-র মান্যতা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। কমিটির সদস্যেরা মনে করছেন, এতে বৃহত্তর পরিসরে স্বাধীন ভাবে সর্বভারতীয় পরীক্ষা পরিচালনায় আরও বেশি সুবিধে পাবে এনটিএ।
এ ছাড়াও স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে এমবিবিএস, আয়ুষ এবং নার্সিং কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা পৃথক ভাবে নেওয়া যেতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এনটিএ জানিয়েছে, উল্লিখিত কোর্সগুলিতে ভর্তি নেওয়া হয় নিট ইউজিতে প্রাপ্ত স্কোরের উপর ভিত্তিতেই।