ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
ট্রেনের ইঞ্জিনে ঢুকে গিয়েছিল একটি ময়ূর। দেখতে পেয়ে স্টেশনে সেই ট্রেন দাঁড় করিয়ে উদ্ধার করা হল ভারতের জাতীয় পাখিকে। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের শেগাঁও রেলস্টেশনে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। রেলের ইঞ্জিন থেকে ময়ূরকে উদ্ধারের ঘটনা ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে নেটাগরিকদের। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুসাওয়াল-বাদনেরা মেমু ট্রেনে ঘটনাটি ঘটেছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রেনটির যাত্রার সময় পাখিটি কোনও ভাবে ইঞ্জিনের ভেতরে ঢুকে আটকা পড়েছিল। ট্রেনটি শেগাঁও স্টেশনে পৌঁছোনোর পর পরই রেলকর্মীরা দেখতে পান যে ইঞ্জিনের ভেতরে একটি ময়ূর আটকা পড়েছে। বিপদ আঁচ করতে পেরে তৎক্ষণাৎ ট্রেনটিকে থামিয়ে দেন তাঁরা। জরুরি ভিত্তিতে দাঁড় করানো হয় ট্রেনটিকে। পাখিটির অবস্থান শনাক্ত করতে সতর্কতার সঙ্গে ইঞ্জিনটি পরীক্ষা করতে শুরু করেন রেলকর্মীরা। এর পর ভারতের জাতীয় পাখিটিকে উদ্ধারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন রেলওয়ে কর্মী, জিআরপি থেকে শুরু করে যাত্রীরা। যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয় ময়ূরটিকে।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রেলওয়ে কর্তা, জিআরপি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন যাত্রীরাও। অত্যন্ত ধৈর্য এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে উদ্ধারকারী দলটি ইঞ্জিনের সঙ্কীর্ণ জায়গা থেকে পাখিটিকে মুক্ত করে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর পাখিটিকে ভীতসন্ত্রস্ত মনে হলেও তার শরীরে কোনও বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে খবর। জানা গিয়েছে, উদ্ধারের পর উদ্ধারকারীরা আলতো ভাবে ময়ূরটিকে ইঞ্জিন থেকে দূরে সরিয়ে নেন এবং সেটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘হরি হর’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্ধারকারী দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘সহমর্মিতা একটি প্রাণ বাঁচাতে বড় ভূমিকা গ্রহণ করে, তা সে প্রাণীটি আকারে যত ছোট বা যে প্রজাতিরই হোক না কেন! এই ভিডিয়োও সে কথাই প্রমাণ করেছে।’’ অন্য এক জন আবার মন্তব্য করেছেন, ‘‘উদ্ধারকারীদের কুর্নিশ। পুরো উদ্ধারকাজ জুড়ে দলটি পাখিটির নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।’’