Bengaluru Daycare Horror

শিশুদের রাখা হচ্ছে ওয়াশিং মেশিনে! কাঁদলে জেট স্প্রে চালিয়ে করা হচ্ছে নির্যাতন, ভয়াবহ দৃশ্য বেঙ্গালুরুর ডে-কেয়ারে

ঘটনাটির জেরে পুলিশ ইতিমধ্যেই ডে-কেয়ার সেন্টারটির পাঁচ জন মহিলাকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে এবং শিশুদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১০:০৭
Video shows Toddlers kept in washing machines, bathroom and tortured with jet spray in Bengaluru day care center, police investigating

ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

শিশুদের পুরে রাখা হয়েছে ওয়াশিং মেশিনে। নির্যাতন করা হচ্ছে জেট স্প্রে চালিয়ে। প্রত্যেক অভিভাবকের দুঃস্বপ্নের সেই ছবি ধরা পড়ল বেঙ্গালুরুর একটি ডে-কেয়ারে। ফরাসি বহুজাতিক সংস্থা ‘ক্যাপজেমিনি’র বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসের ভিতরে পরিচালিত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কেবল কান্নাকাটির ‘অপরাধে’ মাত্র দু’বছর বয়সি শিশুদের এই অমানবিক শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে সেখানে। উদ্বেগজনক ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের জোর করে একটি ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভিতর বসিয়ে রাখা হচ্ছে। জেট স্প্রে দিয়ে জল ছেটানো হচ্ছে তাদের মুখে। শাস্তিস্বরূপ শৌচালয়ের ভিতরেও আটকে রাখা হচ্ছে খুদেদের। সেই ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আন্দবাজার ডট কম

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ক্যাপজেমিনি’র বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসের ভিতরে পরিচালিত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারের ঘটনাটি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে দেশ জুড়ে। জানা গিয়েছে, উভয়েই চাকরি করেন এবং বাড়িতে দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই, এমন অভিভাবকেরা তাঁদের ছোট সন্তানদের ওই শিশু দেখভাল করার কেন্দ্রে রেখে কাজে যেতেন। অভিযোগ, ওই শিশুরা কান্নাকাটি করলে তাদের কান্না থামানোর অজুহাতে ডে-কেয়ারে সেন্টারের মহিলাকর্মীরা তাদের ভয় দেখাতেন। নির্যাতন করতেন নানা ভাবে। শিশুদের ফ্রন্ট-লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ড্রামের ভিতর বসিয়ে রাখা হত জোর করে। শৌচাগারে বসিয়ে মুখে জেট স্প্রে দিয়ে জল ছেটানো হত। মাঝেমধ্যে একরত্তিদের শৌচাগারের ভিতর আটকেও রাখা হত।

ঘটনাটির জেরে পুলিশ ইতিমধ্যেই ডে-কেয়ার সেন্টারটির পাঁচ জন মহিলাকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে এবং শিশুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে ডে-কেয়ার সেন্টারটি সরাসরি ক্যাপজেমিনি পরিচালনা করত, না কি সংস্থার ক্যাম্পাসে কোনও বাইরের সংস্থা সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল— তা এখনও স্পষ্ট নয়। বেঙ্গালুরুর ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের ভিডিয়োগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিয়োগুলিতে ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর যে নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে, সে সব নিয়ে তদন্তকারীরা এখন অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

তদন্তের অংশ হিসাবে পুলিশ অভিযোগকারী, ডে-কেয়ারের কর্মী এবং অন্যান্য সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তদন্তকালে সংগৃহীত প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ঘটনাটি কর্নাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের নজরেও এসেছে। বিষয়টিতে কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কমিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাবে এবং অভিযোগগুলির বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে। অন্য দিকে শিশু নির্যাতনের ঘটনার পর ডে-কেয়ারটি বন্ধ করেছে ক্যাপজেমিনি। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি।

ক্যাপজেমিনি ক্যাম্পাসের ডে-কেয়ারে শিশু নির্যাতনের ভিডিয়োগুলি সমাজমাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ তা দেখেছেন। প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োগুলি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার দোষীদের শাস্তির দাবিতেও সরব হয়েছেন অনেকে।

Advertisement
আরও পড়ুন