Viral Video

খুনের মাসখানেক আগে সিয়ার বাবার সঙ্গে হিন্দি গানে নাচ! হাসিঠাট্টা মায়ের সঙ্গে, কেতনের নতুন ভিডিয়োয় হইচই

ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন গায়িকা রীতু শর্মা, যিনি ওই পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে রীতু তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দু’টি ভিডিয়ো শেয়ার করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১১:২২
Ketan Agarwal seen dancing with accused fiancee Siya Goyal’s parents Month before death

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

খুন হওয়ার মাসখানেক আগেও অভিযুক্ত বাগ্‌দত্তা সিয়া গোয়লের বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, নাচ-গানে মেতে উঠেছিলেন পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবাল। পুণেয় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে কেতন এবং তাঁর বাগদত্তা সিয়ার বাবা-মায়ের নাচের সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। প্রকাশ্যে এনেছেন ওই অনুষ্ঠানে যিনি গান গেয়েছিলেন, সেই গায়িকা। ৭ মে অর্থাৎ, খুনের মাসখানেক আগে ক্যামেরাবন্দি সেই ভিডিয়োয় ২৬ বছর বয়সি কেতনকে বাবা, বাগ্‌দত্তা সিয়ার বাবা-মা এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ করতে দেখা গিয়েছে।

Advertisement

ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন গায়িকা রীতু শর্মা, যিনি ওই পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে রীতু তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিয়ো দু’টি শেয়ার করেন। প্রথম ভিডিয়োয় কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল এবং সিয়ার বাবা-মা, প্রবীণ এবং পূজা গোয়ল ও অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে কেতনকে। প্রবীণ এবং পূজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নাচতে এবং আনন্দ করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এর পর আবার সিয়ার বাবা প্রবীণের সঙ্গে হিন্দি গান ‘ম্যায় নিকলা গড্ডি লেকে’ গানের তালে নাচতে দেখা যায় কেতনকে। তাঁদের একসঙ্গে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে গায়িকা লেখেন, ‘‘৭ মে আমরা অগ্রবাল পরিবারের একটি অনুষ্ঠানে গান করেছিলাম। আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন যে সেখানে তাঁরা কতটা আনন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করছিলেন। দুই পরিবারই খুশি ছিল। কেতনকে নিজের চোখে দেখেছি। কী নিষ্পাপ একটা ছেলে! কে জানত যে এই সুন্দর মানুষটির ভাগ্যে এমনটা ঘটবে।’’

রীতু লিখেছেন, ‘‘আমার এখনও কেতনের কণ্ঠস্বর মনে আছে। অনুষ্ঠানের পর সে মিষ্টি এবং নিষ্পাপ মুখে বলেছিল, ‘ম্যাম, অনুষ্ঠানটি সত্যিই চমৎকার ছিল, দয়া করে রাতের খাবার খেয়ে যাবেন।’ এক জনের সামান্য এক স্বার্থপরতার জন্য এক নিমেষে কত হাসি হারিয়ে গেল।’’ সিয়ার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে গায়িকা আরও মন্তব্য করেছেন যে, কাউকে পছন্দ না করলেই যে তাঁর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে, তা নয়। সিয়া তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাননি কারণ তাতে তাঁর বাবা-মায়ের সম্মানহানি হত। কিন্তু কেতনের বাবা-মায়ের কী হবে? তাঁরা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবেন, সে কথা কি সিয়া একবারও ভাবেননি? ভিডিয়োয় এমন একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন গায়িকা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কারও প্রাণ কেড়ে নেওয়ার চেয়ে ‘না’ বলাটা কেন এত কঠিন? আমরা কেতনের জন্য বিচার চাই! যে দুর্গ থেকে কেতনকে ধাক্কা মেরে খুন করেছে সিয়া, তাঁকেও ঠিক সেই দুর্গ থেকেই নীচে ফেলে দেওয়া উচিত।’’ যদিও রীতুর এই মন্তব্যকে সমর্থন করেননি নেটাগরিকেরা। নেটাগরিকদের একাংশের দাবি, গায়িকা আবেগতাড়িত হয়ে যা বলছেন, তা ঠিক নয়। দেশের আইনই সিয়াকে যথাযথ শাস্তি দেবে।

গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক ভাবে একে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিল পুলিশ। পরে খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরি পরিকল্পনা করে এই হত্যা করেছেন। ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছে কেতনকে। দু’জনকেই খুন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। সূত্রের দাবি, খুনের কথা প্রথম কার মাথায় এসেছিল, তা নিয়ে সিয়া এবং চেতন পরস্পরকে দোষারোপ করছেন জেরার মুখে।

Advertisement
আরও পড়ুন