Bizarre Incident

বয়স ২৮, এক সন্তানের পিতা, তার পরেও বাবার হাত ধরে অফিসে আসেন ইঞ্জিনিয়ার! কারণ জেনে থ উদ্যোগপতিও

অহমদাবাদের উদ্যোগপতি ২৮ বছর বয়সি এমন এক তরুণের কথা তুলে ধরেছেন যিনি তথ্যপ্রযুক্তিক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ার এবং এক শিশুর বাবা। তিনি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী এবং চাকরিজীবী। তবে তিনি গাড়ি চালানো শেখেননি। এমনকি, সাইকেল চালাতেও শেখেননি তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৭:১৩
28-year-old engineer’s father drops him to work every day, viral post creates debate in internet

অনেকের কাছেই গাড়ি চালানো শেখাটা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কিন্তু ২৮ বছর বয়সি এক তথ্যপ্রযুক্তি ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষেত্রে বিষয়টি কখনওই সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে তা ওই তরুণের নিজের ইচ্ছার অভাবে নয়, বরং তাঁর পরিবারের জ্যোতিষের ওপর অন্ধ বিশ্বাসের কারণে হয়েছে। ওই তরুণের পরিবার মনে করে, তাঁর গাড়ি চালানো উচিত নয়।

Advertisement

অহমদাবাদের উদ্যোগপতি প্রীতেশ লাখানি সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটির কথা পোস্ট করেছেন, যা জ্যোতিষশাস্ত্র, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে কুষ্ঠির প্রভাব নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও পোস্টটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

নিজের পোস্টে লাখানি লিখেছেন, ‘‘মানুষ জন্মগত ভাবে শয়তান হয় না। তাদের শয়তান বানানো হয়। কখনও কখনও রাশিফলের দোহাই দিয়ে।’’ পোস্টে লাখানি ২৮ বছর বয়সি এমন এক তরুণের কথা তুলে ধরেছেন যিনি তথ্যপ্রযুক্তি ইঞ্জিনিয়ার এবং এক শিশুর বাবা। যুবক আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী এবং চাকরিজীবী। তবে তিনি গাড়ি চালানো শেখেননি। এমনকি, জীবনে সাইকেলও চালাননি তিনি। লাখানি লেখেন, ‘‘তরুণকে কোনও দিনই গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় না। কারণ, তাঁর কুষ্ঠিতে নাকি বলা আছে যে কোনও ধরনের বাহন চালাতে গিয়ে তিনি কাউকে মেরে ফেলতে পারেন।’’

পোস্ট অনুযায়ী, ওই তরুণের বাবা এখনও তাঁকে প্রতি দিন কর্মস্থলে পৌঁছে দিয়ে আসেন। জ্যোতিষের প্রতি ওই পরিবারের অটল বিশ্বাস দেখে কৌতূহলী হয়ে ওই ইঞ্জিনিয়ারের বাবার সঙ্গে তিনি এক বার রসিকতা করেন বলেও জানিয়েছেন লাখানি।

লাখানির ওই পোস্ট অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পোস্টটি দ্রুত সবার নজর কাড়ে এবং আধুনিক জীবনে জ্যোতিষশাস্ত্রের ভূমিকা নিয়ে একটি বৃহত্তর আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রে স্বাস্থ্য, পেশা, শিক্ষা ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পূর্বাভাস পেতে ঐতিহ্যগত ভাবে কুষ্ঠি তৈরি করানো হয়। তবে এই ভাইরাল পোস্টটি অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে যে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে দৈনন্দিন জীবনে স্বাধীন ভাবে কাজ করার বিষয়গুলি এই ধরনের বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত কি না।

এ বিষয়ে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মতভেদও দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন, জ্যোতিষশাস্ত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয় এবং পরিবার যদি এতে মানসিক স্বস্তি পায়, তবে সেটিকে সম্মান জানানো উচিত। অন্য দিকে, অনেকের মতে কেবল রাশিফলের ওপর ভিত্তি করে এক জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন