Jadavpur University

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী ‘ইউনিয়ন রুম’ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ আরএসএস আদর্শিত সংগঠনগুলির

ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘ, শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (উচ্চশিক্ষা শাখা), বিজেপির আদর্শে গঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ ইউনিয়ম রুমের দাবি জানায়। প্রক্রিয়া শুরু হলেও ফের নতুন করে জটিলতা শুরু হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৭:৫৭
পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘের জন্য বরাদ্দ ইউনিয়ন রুম।

পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘের জন্য বরাদ্দ ইউনিয়ন রুম। ছবি: সংগৃহীত।

বহু দাবির পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অনুমোদিত এবং বিজেপির আদর্শে গঠিত পৃথক দু’টি কর্মচারী সংগঠনকে তাদের কার্যালয় করার জন্য ঘর দেওয়া হল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের ভাবধারায় গঠিত শিক্ষক সংগঠনের জন্যও বরাদ্দ হল ‘ইউনিয়ন রুম।’ কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধানের বদলে জটিলতাই বৃদ্ধি পেল। উঠে এল বৈষম্যের অভিযোগ।

Advertisement

প্রধানত তিনটি সংগঠন বারবার ইউনিয়ম রুম দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। এগুলি হল- ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘ, শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (উচ্চশিক্ষা শাখা), বিজেপির আদর্শে গঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ। বুধবার থেকে এই ঘর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর তা নিয়েই ফের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে দু’টি কর্মচারী সংগঠনের জন্য সুবর্ণ জয়ন্তী ভবনের নীচের তলায় ফার্মাসি ভবনের উল্টোদিকে দু’টি ঘর দেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষক সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে ‘টেকিপ’ ভবনের নীচের তলায় ১০২ নম্বর ঘর। পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সম্পাদক পলাশ মাজি এ বিষয়ে কোনও আপত্তি না জানালেও এই পুরো প্রক্রিয়া ও ঘরের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ অনুমোদিত কর্মচারী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘ এবং শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (উচ্চশিক্ষা শাখা)।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী তথা পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সঙ্ঘের রাজ্যের কার্যকরী সভাপতি অসীম মিত্র জানান যে তাঁদের সঙ্গে ‘অফিসিয়ালি’ কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। ইউনিয়ন রুম পাওয়াটা তাঁদের অধিকার, তাই কর্তৃপক্ষকে নিয়ম মেনেই এই ঘর দিতে হবে। পাশাপাশি যে সুবর্ণ জয়ন্তী ভবনের নীচের তলার কথা হচ্ছে সেটি নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাঁদের। তিনি বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ এমন একটি ঘর আমাদের জন্য ঠিক করেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদম পিছন দিকে। চার নম্বরে গেট দিয়ে ঢুকে একদম শেষে রয়েছে এই ঘর। ওখানে কোনও ইউনিয়ন রুম থাকতে পারে না। আমরা দাবি জানিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের দিকের কোনও ঘর দিতে। কিন্তু সেটা না করে একদম পিছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই ঘর দেওয়া হলেও সেটা আমরা মেনে নেব না।’’ তাঁরা কী কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘ ঘর যে দেওয়া হচ্ছে সেটাও কর্তৃপক্ষ আমাদের অফিসিয়ালি জানাননি। তাই আমরাও কিছু জানাইনি। অফিসিয়ালি আমাদের এই ঘর দেওয়ার বার্তা দিলে সেখানে আমরা আমাদের আপত্তির কথা জানাবো। কোনও ভাবেই ওখানে ইউনিয়ম রুম হতে পারে না।’’ তাঁর সংযোজন, গত পাঁচ বছর ধরে ‘ইউনিয়ন রুম’-এর দাবি জানানো হয়েছে। পাওয়া যায়নি। তাই এ বারে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদম শেষের দিকে কোনও ঘর তাঁরা নেবেন না বলে সাফ জানান অসীম।

পাশাপাশি, শিক্ষক সংগঠনের তরফে যাদবপুরের প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ জানান যে প্রথমে ১১০ নম্বর ঘর দেওয়া হয়েছিল, সেটা তবু ঠিক ছিল। পরে আবার কোনও কারণে সেই ঘর পরিবর্তন করে ১০২ নম্বর ঘর দেওয়া হয়েছে যেটা কোনও ইউনিয়ন রুম হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। তাঁর প্রশ্ন, কর্তৃপক্ষ কেন এই বৈষম্য করছেন? অন্য সংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও তাঁদের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যে দু’টি ঘরে নিয়ে আপত্তি উঠছে সেখানে আগে অন্য ইউনিয়ম রুম ছিল। তাই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

অফিসিয়াল ভাবে জানানোর বিষয়ে এক কর্তার সাফ জবাব, অফিসে এলে ঘরের চাবি দেওয়া হবে। চিঠি দিয়ে কাউকে জানানো হয় না।

Advertisement
আরও পড়ুন