প্রতীকী ছবি।
আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম স্তম্ভ বায়োকেমিস্ট্রি বা জীবরসায়ন। জীবদেহের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া, জৈব অণুর গঠন ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করা হয় এই বিষয়ে। বিশেষত ক্যানসার গবেষণা, প্রতিষেধক তৈরি এবং মলিকুলার ডায়াগনস্টিকসের ক্ষেত্রে বায়োকেমিস্টদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই বিষয়ের পড়াশোনা, শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানের কেমন সুযোগ, সেগুলি আলোচনা করা হল এই প্রতিবেদনে।
রাজ্য ও দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় চার বছরের স্নাতক কোর্সের মাধ্যমে এই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। তিন বছর বায়োকেমিস্ট্রি মেজর বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। চার বছরই কেউ যদি পড়তে চান, সে ক্ষেত্রে স্নাতকের চূড়ান্ত স্তরে মূলত গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনা করতে হয়। এ ছাড়াও দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স এবং পিএইচডি করার সুযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। তবে, উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেই এই বিষয় নিয়ে উচ্চ স্তরে পড়া যায়।
পশ্চিমবঙ্গে সুযোগ কেমন
রাজ্যের মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের গবেষণার ক্ষেত্রে বেশ নাম রয়েছে। এ ছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষার ভাল পরিকাঠামো রয়েছে।
জাতীয় স্তরের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে কেমন সুযোগ
গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে বেঙ্গালুরুর ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স’-এ এই বিষয়ে পড়ানো হয়। এ ছাড়া জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়তেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়ানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে আলাদা ভাবে গবেষণাগারে অনুশীলনও করানো হয়।
দেশের আইআইটি বোম্বে, আইআইটি দিল্লি-সহ একাধিক আইআইটিতে বায়োটেকনোলজি ও বায়োসায়েন্সেস বিভাগের অধীনে বায়োকেমিস্ট্রি-সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
পেশাগত দিক ও কর্মসংস্থান
বায়োকেমিস্ট্রি পড়ার পর শুধু শিক্ষকতা বা অধ্যাপনা নয়, বরং কর্পোরেট ও শিল্পক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ রয়েছে।
রিসার্চ সায়েন্টিস্ট: বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গবেষণাকেন্দ্রে নতুন ওষুধ আবিষ্কার, জিনগত ত্রুটি নির্ণয় এবং রোগ প্রতিরোধের গবেষণায় যুক্ত হওয়া।
ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট: বড় বড় মাল্টি-স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল এবং প্রথম সারির ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ল্যাবরেটরি ইনচার্জ বা টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তরের পর।
ফার্মাসিউটিক্যালস ও বায়োটেক শিল্প: ভারতের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থায় কোয়ালিটি কন্ট্রোল বা কোয়ালিটি অ্যাশিয়োরেন্স অফিসার পদে নিয়োগ করা হয়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান
আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং জাপানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণার বেশি সুযোগ রয়েছে। দেশ থেকে এমএসসি করার পর অনেক শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন (জিআরই) এবং ইংরেজি ভাষাজ্ঞান যাচাইয়ের পরীক্ষা টোফেল বা আইইএলটিএস-এ প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জন করে বিদেশে পিএইচডি বা উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন।