Donald Trump on Birthright Citizenship

‘খুবই খারাপ’! আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, দিলেন সমাধানসূত্রও

দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনে বদল। তবে মঙ্গলবার সে দেশের শীর্ষ আদালত ট্রাম্পের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পর মুখ খুললেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৯:৫৯
Donald Trump react on US Supreme Court\\\'s birthright citizenship ruling

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা ‘বার্থরাইট সিটিজ়েনশিপ’ বহাল রেখেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের সমালোচনা শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে। তাঁর দাবি, এই রায় আমেরিকার জন্য ‘খুব খারাপ’। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও কী ভাবে আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তার সরকার, তা নিয়ে নতুন পন্থার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থনও চেয়েছেন তিনি।

Advertisement

এক্স পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করার বিষয়টি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট, যা আমাদের দেশের জন্য খুবই খারাপ। কিন্তু আমরা কংগ্রেসে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সহজেই এর সমাধান করতে পারি। এর জন্য কোনও দীর্ঘ এবং জটিল সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই। ব্যয়বহুল এবং অন্যায্য এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বন্ধ করার জন্য কংগ্রেসের এখন থেকেই কাজ শুরু করা উচিত। তারা আমার পূর্ণ এবং সর্বাত্মক সমর্থন পাবে।’’

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খান ট্রাম্প। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর পরই তিনি যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনে বদল। ২০২৪-এর নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভোটে জয়ের পরেই সে দেশের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ১৫৭ বছরের পুরনো আইন বদলানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। গত বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় বার প্রবেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিলেন।

তবে মঙ্গলবার মার্কিন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ (এগ্‌‌জ়িকিউটিভ অর্ডার) বাতিল করে দেয়। মার্কিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সে দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সকলেরই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, “১৪তম সংশোধনীর প্রবক্তারা সেই প্রতিশ্রুতি ‘এই দেশের প্রতিটি স্বাধীন ভাবে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তির’ হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’’ একই সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল আদালত।

প্রসঙ্গত, আমেরিকার আইনে জন্মসূত্রের নাগরিকত্বকে বলা হয় ‘জুস সোলি’। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ হল ‘মাটির অধিকার’। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা হয়েছে, সেখানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে স্বাভাবিক ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেই শিশুর মা-বাবা অন্য দেশের নাগরিক হলেও সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে। ১৮৬৮ সালে ১৪তম সংশোধনীতে এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টিকে আমেরিকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন