Advertisement
E-Paper

‘আমেরিকার মাটিতে জন্মেছেন যাঁরা, তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী’, ট্রাম্পের নির্দেশ খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে মার্কিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সে দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী ‘প্রায় সকলেরই’ নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ২১:০০
US Supreme Court upholds birthright citizenship, quashes President Donald Trump’s order

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বা ‘বার্থরাইট সিটিজ়েনশিপ’ বহাল রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ ৬-৩ ভোটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ (এগ্‌‌জ়িকিউটিভ অর্ডার) বাতিল করে দিয়েছে। মার্কিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সে দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সকলেরই নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত।

সংবিধানের ১৪তম সেই সংশোধনীতেই পরিবর্তন আনতে সক্রিয় হয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ‘আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন’-সহ আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি ছিল, আমেরিকার কোনও প্রেসিডেন্টেরই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী পরিবর্তনের ক্ষমতা নেই। আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায় ঘোষণা করতে গিয়ে আবেদনকারী পক্ষের যুক্তির সারবত্তা স্বীকার করে নাগরিকত্বকে “অধিকার পাওয়ার অধিকার” বলে অভিহিত করেছেন। রবার্টস বলেন, “১৪তম সংশোধনীর প্রণেতারা সেই প্রতিশ্রুতি ‘এই দেশের প্রতিটি স্বাধীন ভাবে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তির’ জন্য সম্প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

২০২৪-এর নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভোটে জয়ের পরেই সে দেশের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ১৫৭ বছরের পুরনো আইন বদলানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন। গত বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় বার প্রবেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। গত ২১ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত এক সরকারি নির্দেশনামায় সইও করেছিলেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, আমেরিকার আইনে জন্মসূত্রের নাগরিকত্বকে বলা হয় ‘জুস সোলি’। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি ল্যাটিন শব্দ। যার অর্থ হল ‘মাটির অধিকার’। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা হয়েছে, সেখানে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে স্বাভাবিক ভাবে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেই শিশুর মা-বাবা অন্য দেশের নাগরিক হলেও সে জন্মসূত্রে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবে। ১৮৬৮ সালে ১৪তম সংশোধনীতে এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টিকে আমেরিকার সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ভোটের প্রচারে ট্রাম্প বারে বারেই দাবি করেছিলেন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যেই দেশে অভিবাসী সমস্যা বাড়ছে। অবৈধ অভিবাসীদের সন্তান আমেরিকায় জন্ম নিলেও যাতে নাগরিকত্ব না পায়, তা নিশ্চিত করতেই সক্রিয় হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে বাদ সাধল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

US citizenship Donald Trump US Supreme court Birthright Citizenship Law

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy