Advertisement
E-Paper

অন্য কারও সঙ্গে প্রেম করছেন বাগ্‌দত্তা সিয়া, সন্দেহ করতে শুরু করেন কেতন! কী বলেন বাবাকে? জানতে পারল পুলিশ

নিহত কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল থানায় যে অভিযোগ করেছেন, সেখানে ছেলের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চেতন চৌধরীর সঙ্গে সিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথা পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছিলেন কেতন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ২১:২৯
(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল। সিয়া গোয়ল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল। সিয়া গোয়ল (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সিয়া গোয়লের অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ হয়েছিল বাগ্‌দত্ত কেতন অগ্রবালের। সে কথা নিজের পরিবারকেও জানিয়েছিলেন ২৬ বছরের ব্যবসায়ী। তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের একটি সূত্র বলছে, বিয়ের কথা পাকা করার আগে সিয়ার বিষয়ে পরিবারকে আরও একটু ভাল ভাবে খোঁজ নিতেও বলেছিলেন কেতন। প্রশ্ন উঠছে, তার পরেও কেন কেতনের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়েছিল? চলতি বছর নভেম্বরে কেতনের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সিয়ার।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, নিহত কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল থানায় যে অভিযোগ করেছেন, সেখানে ছেলের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চেতন চৌধরীর সঙ্গে সিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথা পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছিলেন কেতন। জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে গল্প করার সময় সিয়া প্রায়ই চেতনের কথা বলেন। সেই নিয়ে পুত্র কিছুটা সন্দিগ্ধ ছিলেন বলেও দাবি করেছেন বিশাল।

বিশাল এ-ও জানিয়েছেন, বিয়ের আগে সিয়ার সঙ্গে বালি বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কেতন। কিন্তু সিয়া সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেন। তাতে সন্দেহ বেড়েছিল কেতনের। ওই পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ৬ জুন বালি ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করে দেন সিয়া। বিশাল দাবি করেছেন, তার পর থেকেই ২০ বছরের তরুণীর ব্যবহার বদলে গিয়েছিল। সেই নিয়ে বাবাকে অভিযোগ করেছিলেন খোদ কেতন। তিনি বাবাকে জানিয়েছিলেন, ছোটখাট কথায় ঝগড়া করতে শুরু করেন সিয়া। ওই পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘‘বিশাল পুত্রকে বলেন, সিয়ার বয়স কম। সে কারণে এ রকম আচরণ করছেন। তরুণীকে সকলে মিলে বোঝাবেন বলেও পুত্রকে আশ্বস্ত করেছিলেন বিশাল।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪ জুন কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন সিয়া। ওই দিনও বাগ্‌দত্তকে দুর্গের প্রাচীর থেকে তরুণী ঠেলে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। কোনও মতে সামলে নেন কেতন। সিয়া তখন তাঁকে জানান, সাপের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই তাঁকে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি। তাতেই খটকা লেগেছিল কেতনের। তদন্তে নেমে সে কথা জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা জেনেছেন, ওই দিন বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের কাছে সিয়ার আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কেতন। আবার তাঁর বিষয়ে খোঁজ নিতে বলেছিলেন বাবাকে। বিশাল পুলিশকে জানিয়েছেন, পুত্র কেতন তাঁকে জানিয়েছিলেন, সিয়াকে ফোন করলে বেশির ভাগ সময়ই তা ব্যস্ত থাকে। মাঝেমধ্যেই চেতনের কথা তিনি বাগ্‌দত্তকে বলেন। কারও সঙ্গে সিয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহও প্রকাশ করেছিলেন কেতন। কিন্তু পরিবারের লোকজন তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন। জানিয়েছিলেন, সিয়ার পরিবারকে তারা বহু বছর ধরে চেনেন।

তদন্তে নেমে এখন এই দিকগুলিই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কেতনের বাবা বিশালের বয়ানও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিলিয়ে দেখা হচ্ছে সিয়ার পরিবারের সদস্যদের বয়ানও।

গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড়ে দুর্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল কেতনের। প্রথমে বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসাবে মনে হয়েছিল পুলিশের। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আসল তথ্য প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা করে কেতনকে খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করে।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy