রাজ্যে বুধবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) সংক্ষেপে, ‘ভিবি জি রাম জি’ বা ‘জি রাম জি’ প্রকল্প। ২০০৫ সালের ‘মহাত্মা গাঁধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প’ (মনরেগা)-এর পরিবর্তে কার্যকর হচ্ছে এই নতুন প্রকল্প, যাতে কাজের নিশ্চয়তা প্রতি অর্থবর্ষে ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ করেছে ৮,৫০৮ কোটি টাকা। রাজ্য সরকার ৫,৬৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে, যা বিগত সরকারের আমলে বন্ধ ছিল। সেই মতো এই ‘জি রাম জি’ প্রকল্প কার্যকর করার কথা জানিয়েছিল। সোমবার তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। তাতে জানিয়েছে, রাজ্যের যে সব গ্রামীণ এলাকায় প্রযোজ্য, সেখানেই এই প্রকল্প কার্যকর করা হবে। এই প্রকল্পে প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা রয়েছে। এর ফলে গোটা রাজ্যে ২.৫৬ কোটি জব কার্ড হোল্ডারেরা সুবিধা পাবেন।
মজুরি সরাসরি ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’-এর (ডিবিটি) মাধ্যমে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে অথবা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি প্রদান করতে হবে। কোনও পরিস্থিতিতে তা না হলে, আইনের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
আরও পড়ুন:
বিগত তৃণমূল সরকারের শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে একটা বড় সময় ধরে বন্ধ ছিল একশো দিনের কাজের প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ। অভিযোগ, প্রকৃত শ্রমিকদের বদলে ভুয়ো নামে ভরিয়ে ফেলা হয়েছিল উপভোক্তা তালিকা। উপভোক্তাদের একটা বড় অংশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ঠিক ছিল না। একের মজুরি জমা পড়ত অন্যের অ্যাকাউন্টে। এই কারণে একের পর এক কেন্দ্রীয় দল ঘুরে যায় রাজ্যে। তাদের সুপারিশ মেনে অনেক পরে পদক্ষেপ করে বিগত সরকার। উপভোক্তা তালিকা সংশোধন করে (প্রায় ৫০ লক্ষ নাম বাদ যায়) কেন্দ্রের অনুমোদন নিতে যেমন হয়, তেমনই তৎকালীন সরকারের মুখ্যসচিবকে কার্যত মুচলেকা দিয়ে কেন্দ্রকে আশ্বাস দিতে হয়, এমন গরমিল ভবিষ্যতে হবে না।
১ জুলাই থেকে সেই ‘জি রাম জি’ আইন কার্যকর হচ্ছে রাজ্যে। প্রকল্প কার্যকর করার বিষয়টি দেখবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ রোজ়গার গ্যারান্টি কাউন্সিল। তার নেতৃত্বে থাকবেন পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি পরিকল্পনা, প্রস্তুতির বিষয়গুলি দেখবে।