হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে অটো-টোটো চালানো যাবে না! অটো-টোটো দাঁড় করিয়ে চালকদের নিদান দিচ্ছেন বারাসত পুলিশ জেলার এক ট্রাফিক আধিকারিক। সেই ভিডিয়ো ছড়াতেই শুরু বিতর্ক। পুলিশের তরফে এমন কোনও নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। নিজের মতো করে কী ভাবে নির্দেশ চাপিয়ে দিতে পারেন এক পুলিশ আধিকারিক? উঠছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার বামনগাছি চৌমাথা এলাকায় যশোর রোডে দিয়ে যাতায়াত করা একের পর এক টোটো-অটো থেমেছে দত্তপুকুর ট্রাফিক গার্ডের ওসি দেবদাস দেবনাথের নির্দেশে। অভিযোগ, কোনও চালকের পরনে হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি দেখলেই তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন, এই পোশাক কেন এবং পরের দিন থেকে যেন এই পোশাক পরে অটো-টোটো না চালান। অটো ও টোটোর মতো গণপরিবহনের চালকদের পোশাকবিধি এমন কথা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি করল সরকার? পিছনের আসনে বসে যাত্রীরাও গুগ্ল করেছেন।
ট্রাফিক পুলিশের ওসি দেবদাস অবশ্য পরে জানিয়েছেন, এই ‘আবেদন’ তাঁর নিজস্ব। কারণ? দেবদাস বলেন, ‘‘অটো-টোটোতে প্রতি দিন বহু মহিলা যাত্রী যাতায়াত করেন। চালকের পোশাকের কারণে অনেক সময় মহিলাযাত্রীরা অস্বস্তি বোধ করেন। অনেকে বলতে পারেন না।’’ তিনি সেটা অনুভব করেই ‘সচেতনতামূলক প্রচার’ করেছেন বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের ওসি। পাশাপাশি তাঁর ব্যাখ্যা, লুঙ্গি পরে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যায়।
অন্য দিকে, দেবদাসের নিদান পাওয়া কয়েক জন চালক বলছেন, গরমের কারণে তাঁরা অনেক সময় হাফ প্যান্ট পরে অটো-টোটো নিয়ে বার হন। ‘পুলিশবাবু’র নির্দেশে ফুল প্যান্ট পরে গাড়ি চালাবেন বলে অনেকে কথাও দিয়েছেন। আবার বেশ কিছু চালক জানিয়েছেন, বামনগাছি এলাকা মুসলিম অধ্যুষিত। বেশির ভাগ পুরুষ এখানে লুঙ্গিই পরেন। এমনই বয়স্ক এক চালকের কথায়, ‘‘দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। লুঙ্গিতেই স্বচ্ছন্দ। এখন ফুল প্যান্ট পরতে বলা হচ্ছে।’’
যাত্রীরা দ্বিধাবিভক্ত। কারও মত, পোশাক যে যার রুচি অনুযায়ী পরবেন। শালীনতা বজায় থাকলেই হল। আর এক অংশ বলছেন, রাস্তায় ‘শালীন পোশাক’ পরাই দস্তুর। মহিলা-পুরুষ যে-ই হোন না কেন।
আরও পড়ুন:
তবে ওসি-র নির্দেশ বা আবেদন ডিএসপি (ট্রাফিক) নিহাররঞ্জন রায়ের বক্তব্য, ‘‘এমন কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি।’’ তিনি জানান, একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ওই ধরনের পোশাক পরা চালকদের পাশে মহিলাযাত্রী বসে রয়েছেন। সেটা দেখেই হয়তো পুলিশ আধিকারিক নিজে থেকে কাউকে আবেদন করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যদি খারাপ আচরণ বা জোরজবরদস্তি করার অভিযোগ মেলে, সেই অনুযায়ী তদন্ত হবে। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেন, ‘‘আপনাদের কাছেই প্রথম শুনলাম। এমন কিছু জানি না। এমন কোনও নিয়ম নেই। কী হয়েছে, নিশ্চয়ই খোঁজ নেব।’’