Advertisement
E-Paper

অযোধ্যায় প্রণামী চুরির তদন্তে উঠে এসেছে নানা গাফিলতির তথ্য, পাঁচ দফা প্রশ্নের মুখে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট

রামমন্দিরের দানসামগ্রী গণনা করার এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন সেগুলি যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। প্রণামী গোণার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পকেটবিহীন উর্দি পরাও বাধ্যতামূলক করেননি পরিচালন কর্তৃপক্ষ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৯:২০
Five questions arises on the activity of Ayodhya Shri Ram Janmabhoomi Teerth Kshetra Trust

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী (অলঙ্কার ও রত্ন) চুরির ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ধৃত আট অভিযুক্তের হয়ে আদালতের সওয়ালের ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের নিষেধ করেছেন তিনি। কিন্তু বিতর্ক তাতে থামছে না। প্রশ্ন উঠেছে, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারে’র পৃষ্ঠপোষকতায় চলা ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর নাম নানা অনিয়ম নিয়ে।

সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে, সুরক্ষা বিষয়ক সাধারণ কার্যবিধি (এসওপি) এড়ানো-সহ আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন বিষয়। এমনকি, রামমন্দিরের দানসামগ্রী গণনা করার এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলেও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন সেগুলি যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮২ কোটি ৭৮ লক্ষ টানা দান পেয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে প্রাপ্ত দানের মধ্যে ২,১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে ট্রাস্ট।

তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে, এই বিতর্কের কেন্দ্রে পাঁচটি প্রশ্ন উঠে আসছে—

১. দানের নগদ অর্থের ব্যবস্থাপনা কি যথাযথ ছিল?

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০টি দানবাক্স থেকে সংগ্রহ করা নগদ অর্থ বহু ধাপে স্থানান্তরিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সংগ্রহ, পরিবহণ, বাছাই, গণনা, বান্ডিল করা এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে, প্রতিটি ধাপে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং অনিয়ম বা কারচুপি রোধে যথাযথ ভাবে তা পালন করা হয়েছিল কি না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু গাফিলতি নজরে এসেছে বলে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে।

২. সাধারণ কার্যবিধি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি) কি অনুসরণ করা হয়নি?

তদন্তে ইতিমধ্যেই মন্দির কর্তৃপক্ষের নগদ ব্যবস্থাপনা প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, প্রণামীতে পাওয়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী গোণার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের পকেটবিহীন ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক ছিল না এবং দেহ তল্লাশির দায়িত্ব পুলিশ কর্মী বা অন্য কোনও সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর পরিবর্তে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার উপর ন্যস্ত ছিল। যা এসওপির পরিপন্থী।

৩. নজরদারি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কি ফাঁক ছিল?

প্রণামী গণনার এলাকাগুলিতে সিসি ক্যামেরা বসানো ছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করার জন্য পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ৪৫ দিন পর ফুটেজ স্বয়ংক্রিয় ভাবে মুছে যেত (ওভাররাইট)! পাশাপাশি নথিপত্র, ‘অডিট ট্রেইল’ এবং গণনাকৃত নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমার মধ্যে মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে দুর্বলতাও চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারী।

৪. ব্যাঙ্কের সতর্কবার্তা কি উপেক্ষা করা হয়েছিল?

বিতর্ক থেকে উঠে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল, প্রাথমিক সতর্কবার্তাগুলি উপেক্ষা করা হয়েছিল কি না। তদন্তকারী দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) প্রায় তিন মাস আগে যখন এই মামলা প্রকাশ্যে আসে, তখন গণনার প্রক্রিয়ায় সন্দেহজনক অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন সেই সুপারিশগুলি বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, আর তা না হয়ে থাকলে কেন।

৫. অন্যান্য প্রধান মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে সুরক্ষা ব্যবস্থার তুলনামূলক চিত্র কী?

প্রণামী-চুরি বিতর্কে অনিবার্য ভাবে উত্তরপ্রদেশের অন্য প্রধান মন্দিরগুলিতে অনুসৃত ব্যবস্থার সঙ্গে অযোধ্যায় রামমন্দিরের তুলনা এসেছে। বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে অনুদান গণনা ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে এবং ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন সিসিটিভি নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হয়। একই ধরনের বহুস্তরীয় ব্যবস্থা মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দির এবং বৃন্দাবনের বাঁকেবিহারী মন্দিরেও চালু রয়েছে। কিন্তু অযোধ্যায় তা ছিল না। তদন্তকারী দলের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, জনসাধারণের অনুদান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য প্রণামী গণনায় সুরক্ষা, নথিভুক্ত অডিট ট্রেইল, ধারাবাহিক নজরদারি এবং স্পষ্ট ভাবে নির্ধারিত দায়বদ্ধতা প্রয়োজন— যাতে জনসাধারণের অর্থ এবং বিশ্বাস উভয়ই সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু সাকেত নগরীতে তা ব্যত্যয় ঘটেছিল।

Ayodhya Ram Mandir Money Theft Ayodhya Ram Temple Ram Mandir Ayodhya Ram Mandir Trust

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy