একা থাকা মোটেই সহজ নয়, মনে করেন সমীরা রেড্ডী। সম্প্রতি এক আলোচনাসভায় শাশুড়ির একাকিত্ব নিয়ে কথা বলেন তিনি। জানান বিবাহবিচ্ছেদের পরে কী ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর শাশুড়ি। তখন পুত্রবধূ হিসাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সমীরা।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শাশুড়ি মঞ্জরী বর্দের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার কথা বলেন অভিনেত্রী। মঞ্জরী তখন বিবাহবিচ্ছিন্না। তত দিনে সমীরার শ্বশুর নতুন বিয়ে করে ফেলেছেন। বিষয়টি নিয়ে নাকি সমীরার শাশুড়ি বেশ কষ্টে ছিলেন। তখনই অভিনেত্রী স্থির করেন, তিনি তাঁর শাশুড়িকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বনির্ভর করে তুলবেন।
আলোচনাসভায় সমীরা বলেন, “আজ আমি এটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে চাই। যখন আমার সঙ্গে ওঁর প্রথম দেখা হয়, তখন তিনি ডিভোর্সি। আমার শ্বশুর নিজের জীবনে এগিয়ে গিয়েছিলেন, আবার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু শাশুড়ি কখনও মুখ ফুটে তাঁর সমস্যার কথা বলেননি। কিন্তু আমি বুঝতে পারতাম, বিষয়টি ওঁকে কষ্ট দিচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন মঞ্জরীও। সমীরার কথায় সম্মতি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা আমাদের যে কারও পক্ষেই কষ্টের হতে পারে। একা থাকা মোটেই সহজ নয়।”
সমীরা এখন নেটপ্রভাবী। তাঁর শাশুড়িও এই কাজে যোগ দিয়েছেন। শাশুড়ির উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, “আমি স্থির করেছিলাম, আমি তোমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলব। জানতাম, তোমার মধ্যে সেই ক্ষমতা আছে।”
বিচ্ছেদের পরে নানা রকমের সামাজিক চাপও থাকে বলে মনে করেন সমীরা। তাই তিনি বলেন, “বিচ্ছেদের পরে অনেকেই একাকী অনুভব করেন। নানা চাপ নিয়েও তাঁরা ভাবেন। কিন্তু এমনটা ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। জীবন একটাই। আর যদি তুমি শুধু সমাজের জন্য বাঁচো, তা হলে সেটা ঠিক নয়।” তবে মঞ্জরীর প্রাক্তন স্বামী অর্থাৎ নিজের শ্বশুরকে কখনও অসম্মান করতে চাননি তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের শুরুর দিকে অভিনয়সফর শুরু করেছিলেন সমীরা। তবে ২০১০ সাল থেকে তিনি ক্রমশ অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। ২০১৪ সালে ব্যবসায়ী অক্ষয় বর্দকে বিয়ে করার পরে তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নেন। সন্তানজন্মের পর সমীরা এখন পেশায় নেটপ্রভাবী।