নাম-যশের পিছনে ছুটতে হয়নি তাঁকে, সে সব এমনিই এসে ধরা দিয়েছে। সৌন্দর্যের জন্য অল্প সময়েই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী জ়িনত আমন। সত্তর দশকের একের পর এক হিট ছবির নায়িকা তিনি। ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ কিংবা ‘ডন’— পর্দায় তিনি বরাবরই সাহসী রূপে ধরা দিয়েছেন। আর তাতেই নাকি জ়িনতের আপত্তি। অভিনেত্রী জানান, সকলে নাকি তাঁর শরীরটাই দেখেছে, তাঁর মেধার কদর করেনি।
‘ইয়াদো কি বারাত’ (১৯৭৩), ‘রোটি কপড়া অউর মকান’ (১৯৭৫), ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’(১৯৭৮)-এর মতো ছবিতে ঝড় তুলেছিলেন জ়িনত। তাঁর শরীরী আবেদনে মুগ্ধ হয়েছিল সে কালের দর্শক। এতে নাকি উপেক্ষিত হয়েছিল তাঁর অভিনয়ের প্রতিভা, এমনটাই দাবি অভিনেত্রীর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ়িনত বললেন, “আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, চলচ্চিত্রজগৎ শুধু যৌবন আর সৌন্দর্যের কদর করে। তাই মহিলা হিসাবে চেহারা এবং রূপ নিয়ে আমিও বিশেষ যত্নবান হয়েছিলাম। কিন্তু, তার চেয়েও বেশি চেয়েছিলাম নিজেকে প্রমাণ করতে। অভিনয়ে ছক ভাঙার চেষ্টা করেছি। তার পর দেখলাম, লোকে আমার মুখ নিয়ে কথা বলছে। মাথাটার কেউ কদর করল না। আসলে বলিউডে সকলে আমাকে দিয়ে একই রকমের কাজ করালেন। আমাকে নাচতে হবে, বৃষ্টিতে ভিজতে হবে, দু’-একটা সংলাপ বলতে হবে। আর বক্ষবিভাজিকার প্রদর্শন করতে হবে। আমার নামের পাশে ‘সেক্স সিম্বল’ তকমা যেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য সেঁটে গেল।’’
আরও পড়ুন:
বরাবর চেনা ছকের বাইরে পা দিয়েছেন জ়িনত। নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে গিয়েছেন। এখনও মননের দিক থেকে নিজেকে আবিষ্কার করে চলেছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, মহিলাদের নিয়ে ধারণা বদলাতে পারেন ইন্ডাস্ট্রির পুরুষেরা। তাঁর মতে অর্থ ও ক্ষমতা— দুই-ই পুরুষের হাতে। তাই পিতৃতন্ত্রকে ভেঙে নতুন ধারণার প্রতিষ্ঠা করতে পারেন ইন্ডাস্ট্রির পুরুষেরাই। বহু বছর প্রচারের আলোর বাইরে ছিলেন তিনি। তবে সদ্য কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি জ়িনাত জানান, বার্ধক্যও উপভোগ করছেন তিনি।