হাওড়া জেলার ধুলাগড় টোল প্লাজ়ায় ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে টোল আদায়ের বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে (এনএইচএআই) চিঠি দিল জেলা প্রশাসন। বাসমালিকদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থায় বিশেষ সফ্টওয়্যার চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার হাওড়ার জেলাশাসক এনএইচএআই-এর প্রকল্প অধিকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, ধুলাগড় টোল প্লাজ়ায় প্রতিদিনের টোল বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ এক বারে ফাস্ট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা চালুর অনুরোধ করেছেন জেলার বিভিন্ন বাস অপারেটর। বর্তমানে প্রতিটি যাত্রার সময় আলাদা ভাবে টোল কাটা হয়, ফলে দিনে একাধিক বার যাতায়াতকারী বাসমালিকদের খরচ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর আগে ২৪ জুন হাওড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ধুলাগড় টোল প্লাজ়া সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস সমন্বয় সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, এত দিন স্থানীয় বাসের ক্ষেত্রে দৈনিক ২২০ টাকা এবং এক্সপ্রেস বাসের ক্ষেত্রে ৪৫৫ টাকা নগদে টোল দেওয়া হত। কিন্তু এনএইচএআই-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী ফাস্ট্যাগ বা ইউপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে টোল প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরিবহণ ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
ধুলাগড় টোল প্লাজ়ার প্রতিনিধিরা বৈঠকে জানান, বর্তমানে ফাস্ট্যাগ থেকে প্রতিবার যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হয়। এক দিনে একাধিক ট্রিপের জন্য এক বারে টোল পরিশোধের কোনও ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি নগদ বা নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে অর্থপ্রদান করলে অতিরিক্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে। বাসমালিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, ইউপিআই পদ্ধতিতে টোলের পরিমাণও বেড়েছে। স্থানীয় ও এক্সপ্রেস বাসের দৈনিক টোল যথাক্রমে ২৭৫ ও ৫৬৯ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে পরিবহণ ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈঠকে জেলাশাসক এনএইচএআই ও ধুলাগড় টোল কর্তৃপক্ষকে বর্তমান ব্যবস্থা আপাতত বহাল রাখার পাশাপাশি ব্যাংকের সহযোগিতায় ফাস্ট্যাগের জন্য একটি বিশেষ সফ্টওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। এক মাসের মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনএইচএআই-কে অনুরোধ করা হয়েছে। বাসমালিকদের স্বার্থরক্ষায় দ্রুত সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসবে বলেই আশাবাদী জেলা প্রশাসন।