Advertisement
E-Paper

সস্ত্রীক ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের ৬০টি সম্পত্তির দলিল পুলিশের হাতে! কেনা না কি ভয় দেখিয়ে নেওয়া? অর্থের উৎস কী? খোঁজ চলছে

সম্প্রতি জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে বেআইনি উপায়ে বিপুল সম্পত্তি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। বর্তমানে তৃণমূল নেতা রয়েছেন জেল হেফাজতে। স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১১:৩৯
Jahangir Khan

পুলিশের হাতে আগেই গ্রেফতার হয়েছেন সস্ত্রীক জাহাঙ্গির খান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফলতার একদা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান এবং তাঁর স্ত্রীর নামে বিপুল সম্পত্তির হদিস পেল পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। অন্তত ৬০টি সম্পত্তির দলিল উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।

স্থাবর সম্পত্তিগুলির মধ্যে ফ্ল্যাট-বাড়িও রয়েছে। কী ভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন ফলতার ওই দম্পতি, কারও কাছ থেকে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি কেনা হয়েছিল কি না, কেনা হলে কত টাকায় কেনা হয়েছে এবং সেই টাকার উৎস কী— সমস্ত কিছুই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। উল্লেখ্য, জাহাঙ্গির এবং তাঁর স্ত্রী রেজিনা ওরফে সারিকা বিবি দু’জনেই গ্রেফতার হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে।

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ফলতা থেকে জাহাঙ্গিরকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত তিনি। ভোটের দিন বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভোটের দু’দিন আগে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলা (দক্ষিণী চলচ্চিত্রের ডাকাবুকো চরিত্র) জাহাঙ্গির। তার পর তোলাবাজি, ভয় দেখানো-সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত জাহাঙ্গির নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হন। অন্য দিকে, জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা ওরফে সারিকা বিবিকেও ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা গ্রেফতার করেছে। স্বামীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে থানায় তাণ্ডব চালানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এখন স্বামী জেল হেফাজতে। স্ত্রী রয়েছেন পুলিশি হেফাজতে।

এরই মধ্যে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে বেআইনি উপায়ে বিপুল সম্পত্তি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং ইডির কাছেও অভিযোগ জমা পড়ে বলে খবর। অভিযোগকারীর দাবি, সীমিত সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন জাহাঙ্গির এবং তাঁর পরিবার। যার পুরোটাই অবৈধ ভাবে অর্জিত।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গিরের উত্থান তৃণমূল প্রথম বার ক্ষমতায় আসার বছর দুই পর। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ফলতার বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তিনি। তার পর ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন। ২০২৩ সালের পর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। এখন পুলিশের একটি সূত্রে খবর, যে সম্পত্তিগুলির দলিল উদ্ধার হয়েছে, তার মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট-সহ নানা স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলির প্রকৃত মালিকানার খোঁজ চলছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, উদ্ধার হওয়া দলিলগুলির ভিত্তিতে সম্পত্তির মূল্য, অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে ওই সম্পত্তিগুলির সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। অর্থাৎ, আগে ওই সম্পত্তির মালিক কে বা কারা ছিলেন, তিনি বিক্রি করেছেন কি না, জাহাঙ্গিরকে বিক্রি করলে সেটা কত টাকায় করেছেন— এই সমস্ত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সম্পত্তির নথি জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। হাতে পাওয়া সমস্ত নথি খুঁটিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Jahangir Khan tmc leader arrested Assets

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy