E-Paper

প্রতারিত হয়েছিলেন প্রায় ৯০ জন, দাবি তদন্তকারীদের

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও অন্যান্য আবাসন প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অসিত গরিব মানুষের কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ, উপভোক্তাদের নামে ঘর অনুমোদিত হলেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছত না।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০১:১২

— প্রতীকী চিত্র।

আবাস যোজনার টাকা আত্মসাৎ, কাটমানি, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক দিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বাগদা ব্লকের বয়রা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা অসিত মণ্ডল। শনিবার দ্বিতীয়বার তাঁকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগেও তাঁকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল।

অভিযোগ, সরকারি আবাস যোজনায় পাকাবাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন অসিত। পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ধৃতকে জেরা করে এবং অভিযোগের তদন্তে থেকে তদন্তকারীরা প্রাথমিক ভাবে ৯০ জন মানুষের সন্ধান পেয়েছেন, যাঁদের অসিত আর্থিক ভাবে প্রতারিত করেছিলেন। টাকার হিসেবে প্রায় এক কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ বয়রা পঞ্চায়েত অফিসে তদন্তে গিয়ে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। প্রতারিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে। তাদের বয়ান নথিভুক্ত করছে।

কী প্রক্রিয়ায় অসিত মানুষকে প্রতারিত করতেন বলে অভিযোগ?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও অন্যান্য আবাসন প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অসিত গরিব মানুষের কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ, উপভোক্তাদের নামে ঘর অনুমোদিত হলেও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছত না। পরিবর্তে অসিতের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠানো হত। এই ভাবে সে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, সরকারি প্রকল্পে কেউ হয় তো ঘরের টাকা পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেও অসিত কাটমানি খেতেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

অনেক গরিব মানুষ এখনও কাঁচা ঘর বা ত্রিপল টাঙিয়ে বসবাস করছেন। অথচ সরকারি নথিতে তাঁদের নামে পাকা ঘর অনুমোদিত দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, আমপান ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করা থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও টাকা তুলতেন অসিত।

স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবব্রত ঢালি বলেন, “ঠিকদারদের কাছ অসিত টাকা তুলতেন। নিজের দলের কোনও পঞ্চায়েত সদস্যের এলাকায় সরকারি কাজ হলেও সদস্যদের কাছ থেকে অসিত টাকা তুলতেন। সদস্যেরা বাধ্য হতেন টাকা তুলে দিতেন। যে কোনও সরকার প্রকল্প থেকেই অসিত কাটমানি নিয়েছেন।’’

স্থানীয়দের অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস ও ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছিল। বর্তমানে উপপ্রধান হলেও কার্যত তিনিই পঞ্চায়েত পরিচালনা করতেন। তৃণমূলের কিছু নেতাও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেও কোনও পদক্ষেপ করেননি বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

এই সমস্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্ব কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Financial Fraud TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy