শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে ভাস্কর বিশ্বাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৫ জুন। অথচ তিনি দফতরের ই মেল-এর পাস ওয়ার্ড জয়েন্ট রেজিস্ট্রার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারকে দিয়ে যাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্ট্রার দফতরের ওই ই মেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেও তা দেওয়া থাকে। উচ্চ শিক্ষা দফতর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশন সকলেই ওই মেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ, নির্দেশিকা পাঠান। ই মেল খোলা সম্ভব না-হওয়ায় যোগাযোগ, কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রাক্তন অস্থায়ী রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, ‘‘রেজিস্ট্রার পদে কাউকে নতুন করে দেওয়া হয়নি। তাই কাকে জানাবো ওই সব তথ্য, তা স্পষ্ট নয়। দফতরে ‘কনফিডেন্সিয়াল এনভেলপ’-এ রাখা আছে। প্রয়োজনে সোমবার রেজিস্ট্রারের দফতরের আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দেব।’’
নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি জয়েন্ট রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিতের সঙ্গে মেয়াদ ফুরনো অস্থায়ী রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাসের সম্পর্কের তিক্ততা সামনে আসে। তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারী সংগঠন কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই নাম বদলালে জয়েন্ট রেজিস্ট্রার তাদের কর্মসূচি করার অনুমতি দেন। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অস্থায়ী রেজিস্ট্রার। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বিবেকানন্দের মূর্তির রং বদলানো নিয়ে প্রাক্তনী সংগঠন প্রশ্ন তোলে। জয়েন্ট রেজিস্ট্রারের নির্দেশেই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রং বদলালে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেনঅস্থায়ী রেজিস্ট্রার।
জয়েন্ট রেজিস্ট্রারের অভিযোগ, ‘‘গত তিন মাস অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের ই মেলের পাস ওয়ার্ড বদলে দেন। তিনি ছাড়া দফতরের নথিপত্র আমিও দেখতে পারছিলাম না। আর এখন অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের মেয়াদ ফুরিয়েছে। এখনও তিনি ই মেল পাস ওয়ার্ড দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে দিয়ে না-যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।’’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, রেজিস্ট্রারের দফতরের ই মেল রেজিস্ট্রার ছাড়া অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার খোলেন। মেলে কোথা থেকে কী নির্দেশ আসছে, কেউ কোনও বিষয় জানিয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার এবং জয়েন্ট রেজিস্ট্রার সেই সমস্ত যোগাযোগ রক্ষা করতেন। অভিযোগ, সেই প্রক্রিয়া তিন মাস ধরে বন্ধ। অস্থায়ী রেজিস্ট্রারই তা করতেন। মেয়াদ ফুরনোর পরে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার কেউ না থাকায় ই মেল খোলা সম্ভব হচ্ছে না। তাতে নানা জটিল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাকরছেন অনেকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)