E-Paper

পুনর্বাসন নিয়ে স্পষ্ট নয় বন দফতরের পরিকল্পনা

বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমানে গ্রাম ছাড়তে ইচ্ছুক এমন মানুষের সংখ্যার তালিকা পুনরায় সংশোধন করতে হবে। ২০২৩ সালে বন দফতরের সঙ্গে এই বিষয়ে গ্রামবাসীর আলোচনা হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০২:১৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

তাঁদের পুনর্বাসন নিয়ে বন দফতরের পরিকল্পনা জানতে চেয়ে সরব হলেন জয়ন্তীর বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পরে পুনর্বাসন নিয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁদের কিছু জানানোই হয়নি। এ দিকে, বক্সায় বাঘ আনতে বন দফতরের তরফে শুরু হয়েছে তৎপরতা। তাই জয়ন্তী গ্রামকে অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কালচিনি ব্লকের বনছায়া বস্তিতে ফাঁকা করা হচ্ছে সরকারি জমি। তবে এ সব বিষয়ে সরকারি ভাবে তাঁদের এখনও কোনও কিছু জানানো হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জয়ন্তীর বাসিন্দারা। এ নিয়ে বন দফতরের কর্তাদের পাশাপাশি, বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ এবং কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামার কাছেও গ্রামে এসে সরাসরি আলোচনার আর্জি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমানে গ্রাম ছাড়তে ইচ্ছুক এমন মানুষের সংখ্যার তালিকা পুনরায় সংশোধন করতে হবে। ২০২৩ সালে বন দফতরের সঙ্গে এই বিষয়ে গ্রামবাসীর আলোচনা হয়েছিল। সে সময়ে জয়ন্তী গ্রামে প্রায় সাড়ে চারশোর বেশি পরিবারের মধ্যে মাত্র ১২টি পরিবার পুনর্বাসনে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন। গত কয়েক বছরে গ্রামে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে ১৮ বছর বয়সীও হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদেরও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। ফলে অবিলম্বে নতুন তালিকা তৈরি দরকার।এ ছাড়াও, বাসিন্দাদের দাবি, যে গ্রামে তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বাংলা মাধ্যমের স্কুল, পর্যাপ্ত পানীয় জলের পরিষেবা, অ্যাম্বুল্যান্স ঢোকার সুবিধার্থে ১২ ফুটের রাস্তা, অঙ্গনবাড়ি কেন্দ্র থাকতে হবে।

এ বিষয়ে জয়ন্তী গ্রামসভার সম্পাদক আশিস দেব বলেন, ‘‘যে বনছায়া বস্তিতে আমাদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা হচ্ছে, সেই গ্রাম ঘেঁষা বিজয়পুর বস্তিতে সম্প্রতি জমি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছেন গ্রামবাসী। ভবিষ্যতে যাতে ওখানকার স্থানীয়দের সঙ্গে আমাদের কোনও সংঘাত না হয়, তার জন্য আমরা বনমন্ত্রী ও বিধায়কের মধ্যস্থতা চাইছি। প্রয়োজনে বিজয়পুরের বদলে আমাদের অন্য কোনও নিরাপদ ও উন্নত জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।’’ জয়ন্তী গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান লালন মাহাতোও বলেন, ‘‘পুনর্বাসন হলে তা শীঘ্রই আমাদের জানানো হোক।’’

এ বিষয়ে বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেছেন, ‘‘পুনর্বাসনের জন্য জয়ন্তীর ৯৫ শতাংশ বাসিন্দা রাজি রয়েছেন। বাকিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।’’ রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তথা কালচিনি বিধায়ক বিশাল লামারও বক্তব্য, ‘‘জয়ন্তীর সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

WB Forest Department West Bengal Forest Department Rehabilitation

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy