লাইন দিয়ে বসে বিজেপি কর্মীরা। ক্ষৌরকার তাঁদের মাথা কামিয়ে দিচ্ছেন। এমনই দৃশ্য দেখা গেল পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায়।
তৃণমূল আমলে বিরোধী রাজনীতি করতে গিয়ে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যদিও সবই বানানো এবং মিথ্যা মামলা বলেই দাবি। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন রাজ্যে যে দিন তৃণমূল ক্ষমতা হারাবে এবং বিজেপি সরকার আসবে, সে দিন মাথা মুড়়িয়ে নেবেন। সোমবার সেই কাজ করলেন বিজেপির পাঁচ কর্মী। একে ‘গণমুণ্ডন’ কর্মসূচি নাম দিয়েছেন পদ্মশিবিরের নেতারা।
বিজেপির পাঁচ কর্মী জানিয়েছেন, মহাদেবের কাছে মানত করেছিলেন তাঁরা। সেই বাসনা পূরণ হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ‘জেলার ছেলে’ শুভেন্দু অধিকারী। তাই সোমবার দুপুরে এগরা-১ ব্লকের সাহারা অঞ্চলের শিপুর বাজারে কেশবেশ্বর জিউ শিব মন্দিরে যান পদ্মশিবিরের কর্মীরা। সেখানেই ‘গণমুণ্ডন’ কর্মসূচি পালন করেছেন।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বলছেন, তৃণমূল জমানায় তাঁদের একের পর এক কর্মীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হয়েছে। একাধিক মিথ্যা মামলা ঘাড়ে নিয়েও দলের জন্য দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গিয়েছেন কর্মীরা। এমনই এক কঠিন সময়ে কয়েক জন বিজেপি কর্মী কেশবেশ্বর জিউ শিবের মন্দিরে গিয়ে মানত করেছিলেন। ঈশ্বরের কাছে তাঁরা জানিয়েছিলেন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতন ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলে নিজেদের মাথা মুড়িয়ে মহাদেবের চরণে সেই চুল উৎসর্গ করবেন।
সোমবার মানত অনুযায়ী, মন্দিরে পুজো দিয়ে একযোগে পাঁচ কর্মী লাইন দিয়ে বসে মাথা মুড়িয়ে নিয়েছেন। মাথা মুড়িয়ে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘তৃণমূল জমানায় দিনের পর দিন আমাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, সেখান থেকে মুক্তি মিলেছে। রাজ্যে সুশাসন এসেছে। আমরা মহাদেবের কাছে যে মানত করেছিলাম, আজ তা ভক্তিভরে পূরণ করলাম। হালকা লাগছে।’’
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের এই ‘গণমুণ্ডণ’ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকে শিপুর বাজার এবং মন্দির চত্বরে পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা ভিড় জমান। ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান।