ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল! না কি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে? অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে এমনই ভাবছেন শিলিগুড়ির পুরকর্মীরা। তাঁরা গিয়েছিলেন অবৈধ ভাবে তৈরি হওয়া পানশালা ভাঙতে। কিন্তু ভিতরে গিয়ে দেখলেন, শুধু খানাপিনার বন্দোবস্ত নয়, সুরা তৈরিও হয় সেখানে। আস্ত বিয়ারের কারখানা দেখে প্রশ্ন কোথা থেকে কবে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? সদুত্তর নেই আবগারি দফতরের কাছেও।
কয়েক দিন হল তৃণমূলের গৌতম দেব শিলিগুড়ির মেয়রপদ ছেড়েছেন। তার পর প্রশাসক নিয়োগ করেছে রাজ্য। সেই থেকে শহর জুড়ে একের পর এক ‘অভিযান’ চালাচ্ছে পুরসভা। যাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুর কমিশনার বীরবিক্রম রাই নিজে। শিলিগুড়ি শহরে হিলকার্ট রোড থেকে বর্ধমান রোড কিংবা সেবক রোডের আশপাশে গজিয়ে ওঠা বহুতল নিয়ে নানা সময়ে অভিযোগ উঠেছে। সেগুলোয় পর পর হানা দিচ্ছে পুরসভা। কিন্তু সেবক রোডের উপর বাণিজ্যিক বহুতল যে মদের ‘আঁতুড়ঘর’, তা জানা ছিল না। সোমবার বহুতলের নকশা নিয়ে সেবক রোডের ধারে সেই পানশালায় হাজির হন পুরসভার লোকজন। ওই জায়গায় বেশ কিছু ‘পাব’এবং ‘বার’ রয়েছে। বেশির ভাগই অবৈধ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এমনই একটি পানশালায় দলবল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন পুর কমিশনার। নকশা মেনে নির্মাণ গড়ে উঠেছে কি না, দমকলের লাইসেন্স রয়েছে কি না, এ সব খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁদের চোখে পড়ে আরও ‘বড় জিনিস’।
পানশালার ভিতরে তৈরি হওয়া বিয়ারের কারখানা দেখে পুর কমিশনার নিজেই হকচকিয়ে যান। যেখানে দমকলের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ, সেখানে কী ভাবে বিয়ার তৈরির কারখানা চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই বিষয়টি আবগারি দফতরের আওতাধীন। কিন্তু নির্মাণের নানাবিধ অসঙ্গতি নিয়ে মালিকপক্ষকে পুরসভায় গিয়ে দেখা করতে বলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, শিলিগুড়ি পুরসভার আওতাধীন হলেও এখানকার আবগারি দফতর জলপাইগুড়ি জেলার। পানশালার ভিতরে বিয়ারের কারখানা নিয়ে কিছু জানতেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন করায় আবগারি দফতরের আধিকারিক সাঙে ভুটিয়া বলেন, ‘‘সেবক রোডের একটি ‘পাব’-এর ক্ষেত্রে লাইসেন্স রয়েছে৷ এটাকে ‘ব্রিউ পাব’ বলা হয়।’’ তবে এই পাবটিই সেই ‘ব্রিউ পাব’ কি না, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। ওই পাবটিতে বিয়ার তৈরির পরিকাঠামো কিংবা প্রস্তুতি নিয়ে দফতর কিছু জানে কি না, ভুটিয়া তা বলতে পারেননি। এ নিয়ে শিলিগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অমিত জৈনের মন্তব্য, ‘‘আমরা অনেক দিন ধরেই ওই বহুতল নিয়ে অভিযোগ করে আসছি৷ এটা শহরের বুকে একটি অভিশাপ৷ ব্রিউ লাইসেন্স বা এই রকমের কিছু ‘টেকনিক্যাল টার্ম’ ব্যবহার করেই বিগত সরকার বিপুল দুর্নীতি করেছে৷ বেশ কিছু সরকারি আধিকারিক এখনও সেই অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেননি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নেপথ্যে আবগারি দফতরের চরম গাফিলতি এবং দুর্নীতি রয়েছে। এ সব এ বার বন্ধ হবেই।’’ পুর কমিশনারের মন্তব্য, ‘‘আগে কোথায় ‘সেটিং’ করে কাজ করেছেন জানি না। এখন বেআইনি কিছু হবে না।’’
বহুতলের পাশাপাশি শিলিগুড়ি শহর জুড়ে অবৈধ হোর্ডিং, ব্যানার-বিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন পুর কমিশনার। বেশ কিছু জায়গায় মালিকপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাও হয়। পুরসভার নির্দেশ, সমস্ত বেআইনি হোর্ডিং এবং ব্যানার চটজলদি খুলে ফেলতে হবে।