দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আরও এক তৃণমূল নেতাকে গণপ্রহার হুগলিতে। চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ওই নেতার উপর একের পর এক ডিম নিক্ষেপ করার পর চড়-থাপ্পড় কষাল জনতা। পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে এই আক্রমণ চলে। তবে এ নিয়ে গ্রেফতারির কোনও খবর মেলেনি।
আক্রান্ত তৃণমূল নেতার নাম দেবাশিস চক্রবর্তী ওরফে টুকুন। চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল বিধায়ক অসিতের ‘কাছের লোক’ হিসাবে পরিচিত টুকুন কোদালিয়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ গুচ্ছ অভিযোগ করেছে বিজেপি এবং স্থানীয়দের একাংশ। সোমবার সকালে পঞ্চায়েত অফিস খোলার পরে সেখানে উপস্থিত হন একদল লোক। তাঁদের বেশির ভাগই বিজেপির কর্মী-সমর্থক। উপপ্রধানকে শারীরিক হেনস্থা করা হয় দীর্ঘ ক্ষণ ধরে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তার পরেও মারধর, ডিম ছোড়া চলে।
বিজেপির অভিযোগ, একদা সম্পত্তি বলতে প্রায় কিছুই ছিল না টুকুনের। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হওয়ার পর থেকে ‘উন্নয়ন শুরু’ হয় তৃণমূল নেতার এবং তাঁর পরিবারের। গত কয়েক বছরে বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি। ছুটিতে বিদেশে বেড়াতে যেতেন। পরিবারের সকলকে নানা সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এক বিক্ষোভকারী তথা বিজেপিকর্মীর কথায়, ‘‘পঞ্চায়েতে পরিবারতন্ত্র চালাতেন উনি। রাস্তা, আবাস-সহ নানা সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি করেছেন। এত দিন কেউ কিছু বলতে বা করতে পারেনি।’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা এবং কর্মীরা। তাঁরা নানা হিসাবপত্র চান। এক-দু’ কথার পর তর্কাতর্কি হয়। তার পর অফিসের সামনেই উপপ্রধানকে মারধর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
খবর পেয়ে পুলিশ যায় বেশ খানিক পরে। উপপ্রধানকে আট করে থানায় নিয়ে যায় তারা। দীর্ঘ সময় ধরে পঞ্চায়েতের সামনে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। বিজেপির বিক্ষোভ এবং উপপ্রধানকে মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
সোমবার হাওড়ার বালিতেও ডিম ছোড়াছুড়ি হয়েছে। তৃণমূল নেতা সনাতন গোস্বামীর ভাই চন্দন গোস্বামীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন কয়েক জন। তাঁদের বাড়ির সামনে ‘জমি মাফিয়া’ লেখা পোস্টার সাঁটিয়ে দিয়ে যান কয়েক জন।